বুধবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন বিএম কনটেইনার ডিপোতে দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া মাসুদ রানার স্ত্রী সুমি বেগম। ৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে মারা যান তিনি।
মাসুদ রানা জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকার খলিলুর রহমানের ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। ১২ বছর আগে সুমিকে বিয়ে করেন তিনি। তাদের সংসারে নয় ও আড়াই বছর বয়সী দুটি সন্তান রয়েছে।
.png)
৬ বছর ধরে বিএম কনটেইনার ডিপোতে আরএসটি অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন মাসুদ রানা। তিনি পরিবার নিয়ে ডিপোর পাশের একটি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ সুমি বেগম। স্বামীকে হারিয়ে কীভাবে চালাবেন সংসার, কী করবেন সন্তানদের নিয়ে- এসব ভাবনাই জেঁকে বসেছে তাকে।
সুমি বেগম জানান, ঘটনার সময় (শনিবার) রাত ৯টা ৪০ মিনিটে তাকে ফোন করে ডিপোতে আগুন লাগার কথা জানান মাসুদ। ওই সময় তিনি মাসুদকে বাসায় চলে যেতে বলেন। কিন্তু মাসুদ আরেকটু পর যাবেন বলে জানান। এরপর থেকে মাসুদকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে ঘটনাস্থলসহ বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন স্বজনরা। একপর্যায়ে চমেক হাসপাতালের আইসিউতে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়।
সুমি বেগম বলেন, অনেক খোঁজ করে তাকে পেয়েছি। সারাদিন তার জন্য কেঁদেছি, আল্লাহর কাছে চেয়েছি। কিন্তু সে ফিরে আসলো না।
শনিবার রাত ৮টার দিকে ডিপোর লোডিং পয়েন্টের ভেতর আগুন লাগে। খবর পেয়ে কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে রাত পৌনে ১১টার দিকে এক কনটেইনার থেকে অন্য কনটেইনারে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে একটি কনটেইনারে থাকা রাসায়নিক থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে।
বিস্ফোরণ ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ৯ সদস্যসহ এখন পর্যন্ত প্রাণহানি হয়েছে ৪৪ জনের। এছাড়া দগ্ধ ও আহত হয়ে চট্টগ্রাম এবং ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন শতাধিক।