ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

শতবর্ষী জাম গাছের অলৌকিক রহস্য!

হারুন আনসারী, ফরিদপুর
প্রকাশিত: ১৬:২৭, ১১ জুন ২০২২
শতবর্ষী জাম গাছের অলৌকিক রহস্য!
শতবর্ষী জাম গাছ ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

গাছের প্রাণ আছে একথা প্রমাণ করে গেছেন বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু। গাছ কথা বলতে পারে না। তবে প্রাণ থাকলেও গাছ মানুষের আচরণে বুঝতে পারে না এটিই সবার জানা। 

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ভাওয়াল ইউপির উত্তর পুরুরা গ্রামে রয়েছে এমন একটি জাম গাছ যেখানে মানুষকে সংযত আচরণ করতে হয়। যুগের পর যুগ চলে আসছে এই রীতি। যদি এই সংস্কারকে অগ্রাহ্য করে কেউ গাছে চড়ে বা অশ্রদ্ধা-অভক্তি করে তাহলে তার ক্ষতি হয়ে যায় এমনই বিশ্বাস এখানকার মানুষের। 

এ পর্যন্ত যারাই রীতি ভেঙে এই গাছে চড়েছেন তারা সপাৎ করে ছিঁটকে পড়ে গেছেন শতবর্ষী এ গাছ থেকে। গ্রামবাসীর মাঝে এমনই অলৌকিকতা জড়িয়ে আছে এই গাছকে ঘিরে। যদিও এর আগে কেউ এই গাছ থেকে পড়ে মারা যায়নি। এবার ১০০ বছরের রেকর্ড ভেঙে এই গাছটি থেকে পড়ে প্রথম কারো মৃত্যু হয়েছে। এ কারণে এই অজপাড়া গাঁয়ের এই জাম গাছটিকে ঘিরে গ্রামে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে নতুন করে।

Advertisement

শতবর্ষী জাম গাছ

স্থানীয় বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য বেলাল মাতুব্বর বলেন, ‘এই জাম গাছটা আসলে কতো প্রাচীন তা জানি না। তবে বড়দের মুখে শুনেছি এটি ১০০ বছরেরও বেশি পুরোনো। এই গাছটি লাগিয়েছিলেন মুন্সি ওয়াজেদ নামে একজন কামেল ব্যক্তি। যাকে অনেকে পাগল বলেন।’

তিনি বলেন, সালথার উত্তর পুরুরা গ্রামের এই এলাকাটির নাম সেই থেকে পাগলভিটা। প্রায় ১০০ বছরেরও বেশি সময় আগে যখন এ গ্রামে ডায়রিয়া, কলেরা মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছিলো, সেই বিপদের মুহূর্তে গ্রামবাসীর সামনে মুক্তির দূত হয়ে এসেছিলেন সূফি ওয়াজেদ মুন্সি নামে এক কামেল ব্যক্তি। 

দক্ষিণের দূর্গাপুরের বাসিন্দা এই কামেল ব্যক্তিকে অনেকে পাগলও বলেন। তবে বিপদাপন্ন গ্রামবাসীকে তিনি ওই মহামারি থেকে রক্ষার কৌশল জানিয়ে গিয়েছিলেন। বলতেন ‘তোমরা ফেনাভাত আর পাট শাঁক খাও।’ তাতেই মানুষ সুস্থ হয়ে যেতো।

সেই কামেল পাগল এখানে রোপণ করেছিলেন এই জাম গাছটি। সেই থেকে এটি পাগলভিটা নামে পরিচিত। এলাকার মানুষ স্থানটিকে সংরক্ষিত করে রেখেছেন ভক্তি শ্রদ্ধার সঙ্গে। প্রতি বছর এখানে বড় মেলার আয়োজন করা হয়। নানা অনুষ্ঠান হয় সেখানে। কেউ গাছে চড়তে গেলে গাছটিকে প্রথমে সালাম দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। তারপর নিয়ম মেনেই গাছে চড়ে।

জানা গেছে, পুরুরার পাশের গ্রাম মিরাকান্দার দশ বছর বয়সী শিশু আবির গত বুধবার ভরদুপুরে এই গাছটিতে উঠে। এরপর হঠাৎ সে গাছ থেকে পড়ে যায়। 

স্থানীয়রা বলছেন, নিয়ম না মেনে গাছটিতে উঠার পর আবির হঠাৎ করেই গাছ থেকে পড়ে মারা যায়। নিহত আবির মিরাকান্দা গ্রামের কৃষক বিল্লাল শেখের ছেলে। সে পুরুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিলো।

শত বছরের পুরনো এই গাছ থেকে পড়ে মারা যাওয়া প্রথম কারো মৃত্যুর ঘটনাটি এলাকার মানুষের মাঝে নানা জল্পনা কল্পনা সৃষ্টি করেছে। গাছটি এখন স্থানীয়দের মাঝে নতুন করে কৌতূহলের উপাদান হয়ে উঠেছে। যার কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কেউ দিতে পারে না। এলাকার শিক্ষিত-অশিক্ষিত সবাই এই নিয়ম মনে চলেন শৃঙ্খলার স্বার্থে।

চিত্তরঞ্জন নামে স্থানীয় একজন কৃষক বলেন, আমরা সবাই গাছটি মেনে চলি। এবারই প্রথম কেউ মারা গেলো গাছ থেকে পড়ে।

ভাওয়াল ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মামুন সরদার বলেন, ৮৮’র বন্যার সময় সেখানে ছিলো সত্য মেম্বার। তখন আমি ছোট। তবে সেই সময় মানুষ ওই গাছতলায় অনেক কিছু দেখেছেন বলে শুনেছি। অবশ্য এর আগে এমন নিয়ম না মানায় অনেকে গাছ থেকে পড়ে গেলেও মারা যায়নি। আবিরই প্রথম এভাবে মারা গেলো। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
ট্যাগ: ফরিদপুর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!