সচেতন মহল বলছে, রোহিঙ্গাদের মধ্যে নেতৃত্ব না মানার প্রবণতা, অপরাধের প্রতিবন্ধকতা, আধিপত্য বিস্তারের কারণে টার্গেট কিলিং সংগঠিত হচ্ছে। রোহিঙ্গারা যেন সংঘবদ্ধ হয়ে নিজেদের অধিকারের কথা বলতে না পারে সেজন্য বেছে বেছে খুন করা হচ্ছে।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের তথ্য মতে, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৪ ধরনের অপরাধে ১৯০৩টি মামলা হয়েছে। যার মধ্যে খুন ৯৩টি। এর বাইরে জুন মাসের ২৩ তারিখ পর্যন্ত ক্যাম্পে খুন হয়েছে আরো ৪টি। ফলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খুনের ঘটনা ঘটেছে ৯৭টি। অধিকাংশ খুনের ঘটনায় নিহত ব্যক্তি রোহিঙ্গা নেতা ছিলেন।
.png)
অভিবাসন ও রোহিঙ্গা বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর জানান, মুহিবুল্লাহ রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত নিতে কাজ শুরু করেছিলেন। আন্তর্জাতিক মহলে রোহিঙ্গাদের মুখপাত্র হওয়ার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নেতা হয়ে উঠেছিলেন। এ কারণেই ২০২১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর পরিকল্পিতভাবে তাকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। সেদিন থেকেই ক্যাম্পে টাগের্ট কিলিং বাড়তে শুরু করে। ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো এসব খুনের ঘটনা ঘটাচ্ছে। এ কারণে রোহিঙ্গাদের মাঝে দিনদিন নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।
৮ এপিবিএনের অধিনায়ক শিহাব কায়সার খান জানান, স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে, অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের আটক করা হয়। অনেক সময় এসব কারণেও অপরাধীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ক্যাম্পের স্বেচ্ছাসেবকদের টার্গেট করে খুন করছে। তবে ক্যাম্পের নিরাপত্তা রক্ষায় আগের চেয়ে টহল বাড়ানো হয়েছে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান অবশ্য বলেন, ক্যাম্পে অপরাধ প্রবণতা দমনে ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে পুলিশ কাজ করছে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এপিবিএনের ৩টি ব্যাটালিয়নের পাশাপাশি জেলা পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।