বাসে ডাকাতি-ধর্ষণে রতন-মান্নানের জবানবন্দি
টাঙ্গাইলে বাসে ডাকাতি ও যাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত মাহমুদুল হাসান মুন্না ওরফে রতন হোসেন ও আব্দু মান্নান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) বিকেলে টাঙ্গাইলের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক নওরিন করিমের আদালতে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এর আগে মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) রতনসহ ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনদিনের রিমান্ডে নেয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এরমধ্যে চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
.png)
টাঙ্গাইলের আদালত পরিদর্শক তানবীর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, রিমান্ডে থাকা চারজনকে আদালতে তোলা হয়। এরমধ্যে ঘটনার মূলপরিকল্পনাকারী মাহমুদুল হাসান মুন্না ওরফে রতন হোসেন ও আব্দুল মান্নান আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে হাসমত আলী ওরফে দীপু ও জীবন প্রামাণিক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। পরে চারজনকেই কারাগারে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন জানান, এ মামলায় মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আসামিরা সবাই টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে রয়েছেন।
স্বীকারোক্তি দেওয়া আসামিরা হলেন- মাহমুদুল হাসান মুন্না ওরফে রতন হোসেন, রাজা মিয়া, আউয়াল, নুরনবী, আব্দুল মান্নান, সোহাগ মন্ডল, বাবু হোসেন জুলহাস, আসলাম তালুকদার ওরফে রায়হান, রাসেল তালুকদার, আলাউদ্দিন ও নাঈম সরকার। এছাড়া জীবন প্রামাণিক ও হাসমত আলী ওরফে দীপু আদালতে স্বাকীরোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি।
গত ২ আগস্ট কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে নারাগঞ্জগামী ঈগল পরিবহনের একটি বাসটি সিরাজগঞ্জ পৌঁছলে যাত্রীবেশী ডাকাতরা গাড়িতে উঠেন। টাঙ্গাইল অতিক্রম করার পর তারা অস্ত্রের মুখে বাসের নিয়ন্ত্রণ নেন। পরে যাত্রীদের টাকা পয়সা, মুঠোফোন, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুটে নেন। এ সময় বাসের এক নারী যাত্রী গণধর্ষণের শিকার হন। পরে বাসটি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার রক্তিপাড়া নামক স্থানে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এ ঘটনায় ওই বাসের যাত্রী হেকমত আলী বাদী হয়ে বুধবার মধুপুর থানায় ডাকাতি ও ধর্ষণের মামলা করেন।
নৈশকোচে যাত্রীবেশে ডাকাতি ও এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারীসহ ডাকাত চক্রের ১০ সদস্যকে আটক করে র্যাব। গত রোববার রাতে ঢাকা, গাজীপুর ও সিরাজগঞ্জ এলাকায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।