গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সদর উপজেলার ঘাটুরা গ্রামের রেনু মুন্সির ছেলে আবদুল আহাদ, তার স্ত্রী ববিতা বেগম, পৌর এলাকার মধ্যপাড়া নয়াপুকুর পাড়ের রবি বাবুর্চির ছেলে সাজন মিয়া, পৌর এলাকার ভাদুঘরের মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে মো. মশিউর রহমান, সদর উপজেলার মজলিশপুর গ্রামের কবির মিয়ার মেয়ে লিপি আক্তার এবং নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় গ্রামের খায়রুল ইসলামের স্ত্রী জহুরা বেগম।
এ সময় তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণের নয় হাজার ৩৫০ টাকা, মুক্তিপণ আদায়ের কাজে ব্যবহৃত বিকাশ নম্বরসহ নয়টি মোবাইল ফোন এবং অপহৃত যুবকের কাছ থেকে নেয়া ৫০ হাজার টাকা মূল্যমানের একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সরাইল থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।
.png)
বুধবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন এ তথ্য জানান। তিনি জানান, প্রতারক চক্রের সদস্যরা ১৫ আগস্ট বিকেলে সরাইলের অরুয়াইল গ্রামের মো. রৌশন আলীর ছেলে সৌদি আরব প্রবাসী মো. শাকিল মিয়াকে উপজেলার কালীকচ্ছ এলাকা থেকে এবং ১৬ আগস্ট দুপুরে অরুয়াইল বাজার এলাকার হাজী কাঞ্চন মিয়ার ছেলে সৌদি আরব প্রবাসী সোরহান মিয়াকে প্রতারক চক্রের সদস্যরা প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে ডেকে নিয়ে আসেন।
পরে তাদেরকে শহরের বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে ঐ প্রতারক চক্রের মহিলার তাদেরকে নগ্ন করে ছবি তুলে তাদের আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৭০ হাজার টাকা আদায় করেন। এর মধ্যে শাকিলের আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে ১০ হাজার ও সোরহান মিয়ার আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে তিন দফায় ৬০ হাজার টাকা আদায় করেন। শাকিলের আত্মীয় স্বজন অপহরণের বিষয়টি সরাইল থানাকে অবহিত করলে পুলিশ তাদেরকে উদ্ধারের জন্য মাঠে নামে। পরে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মোবাইল ফোন রেখে শাকিলকে এবং বিকেল ৪টায় সোহরান মিয়াকে অপহরণকারীরা ছেড়ে দেন। মঙ্গলবার রাতে পুলিশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকা ও শহরতলীর বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতারক চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন আরো বলেন, গত ১০ আগস্ট রাতে একই ধরনের প্রতারক চক্রের আরো তিন সদস্যকে পৌর এলাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন- গোকর্ণঘাট এলাকার নাছির মিয়ার স্ত্রী স্বপ্না বেগম, জেলা শহরের পশ্চিম মেড্ডার শফিকুল ইসলামের স্ত্রী শিরিন ইসলাম এবং সদর উপজেলার রাজঘর গ্রামের জুরু মিয়ার ছেলে মো. বিল্লাল মিয়া। এ ঘটনায় সদর মডেল থানায় একটি মামলা করা হয়।