সোমবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শারমিন নিগার এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- জেলার আখাউড়া উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের চাঁনপুর উত্তর পাড়া এলাকার আমানত খাঁর ছেলে মো. জাকির খাঁ, মাহবুব খাঁ ও গাজী খাঁ। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জেলার আখাউড়া উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের চাঁনপুর উত্তর পাড়া এলাকার অলি নোওয়াজ খাঁর ছেলে আমানত খাঁ। তিনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির বাবা। রায় ঘোষণাকালে যাবজ্জীবন প্রাপ্ত আমানত খাঁ ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন ভাই বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির সীমানা নিয়ে পূর্ব বিরোধের জের ধরে আসামিদের সঙ্গে শরীফ খাঁ পরিবারের পূর্ব বিরোধ চলে আসছিল। স্থানীয়ভাবে এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করলেও আসামিরা সালিশের রায় অমান্য করেন। ঘটনার দিন ২০১৫ সালের ৬ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শরীফ খাঁর বাড়ির একটি গাছ কাটতে থাকলে শরীফ খাঁ তাতে বাধা দেন। এতে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে শরীফ খাঁ, তার ছেলে রবিন খাঁ, রাসেল খাঁ, স্বজন মোশারফ খাঁ, বাদশা খাঁ ও আছিয়া বেগমকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কুপিয়ে জখম করেন। আসামিরা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে শরীফ খাঁকে মারাত্মক জখম করেন। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
.png)
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল থেকে শরীফ খাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করলে ঢাকা নেয়ার পথে নরসিংদী এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সে শরীফ খাঁ মারা যান। এ ঘটনায় তার স্ত্রী মাজেদা বেগম লিপি ঐদিন রাতেই জাকির খাঁ, মাহবুব খাঁ, গাজী খাঁ, আমানত খাঁ ও আমির খাঁর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো পাঁচ থেকে ছয়জনের বিরুদ্ধে আখাউড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি আখাউড়া থানার এসাই মো. আকরামুল হককে তদন্ত করার জন্য দেওয়া হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল এসআই মো. আকরামুল হক জাকির খাঁ, মাহবুব খাঁ, গাজী খাঁ ও আমানত খাঁর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে আদালত মামলার ১১ জন সাক্ষী ও তিনজন সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে সোমবার দুপুরে মামলার রায় ঘোষণা করেন।
এ ব্যাপারে মামলার বাদী ও নিহত শরীফ খাঁর স্ত্রী মাজেদা বেগম লিপি বলেন, রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আমরা আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন ভারপ্রাপ্ত পিপি অ্যাডভোকেট আজাদ রাকিব আহমেদ তুরান ও আসামিপক্ষের মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মো. শাহ পরান। অ্যাডভোকেট আজাদ রাকিব আহমেদ তুরান বলেন, এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এতে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।