সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে শরিফুল হত্যাকাণ্ড নিয়ে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন গ্রেফতার স্ত্রী ফারজানা। ৩০ বছর বয়সী শরিফুল শাহজাদপুরের বেলতৈল ইউনিয়নের আগনুকালি গ্রামের আবু সামার ছেলে। তার স্ত্রী ১৮ বছরের ফারজানা খাতুন একই উপজেলার চর বেতকান্দি গ্রামের ফখরুল ইসলামের মেয়ে।
মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শাহজাদপুর সার্কেল) হাসিবুল ইসলাম।
.png)
তিনি জানান, ১৪ জানুয়ারি দুপুরে শাহজাদপুর উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের পাশে করতোয়া নদী থেকে শরিফুলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর তিনদিন পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়। সোমবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন অভিযুক্ত ফারজানা।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিবুল বলেন, ৯ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১১টার দিকে শ্বশুরবাড়িতে যান শরিফুল। রাত ৩টার দিকে শরিফুলকে নদীর পাড়ে নিয়ে যান ফারজানা। হাত-পা বেঁধে নদীর স্রোতের পানি তুলে পান করলে শারীরিক অক্ষমতা দূর হবে বলেও কবিরাজের বরাত দিয়ে জানান তিনি।
সরল বিশ্বাসে স্ত্রীর কথায় সায় দেন স্বামী। পরে শরিফুলের পরনের লুঙ্গি ছিঁড়ে হাত-পা বেঁধে দেন স্ত্রী। এরপর প্লাস্টিকের বোতল হাতে নিয়ে নদীর স্রোতের পানি তুলতে যান গেলেই স্বামীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন তিনি। একই সঙ্গে ঘাড় চেপে ধরেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ফারজানার হাতে কামড় দেন শরিফুল। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে শরিফুলের ঘাড় ভেঙে দেন।
পরে শরিফুলের মৃত্যু নিশ্চিত হলে শরিফুলের লাশ শ্যালো নৌকার নিচে ঢুকিয়ে দেন। এ ঘটনার চারদিন পর ১৪ জানুয়ারি করতোয়া নদীর পোলঘাটে লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। লাশ উদ্ধারের পর ছেলেকে শনাক্ত করেন শরিফুলের মা। ওই দিনই স্ত্রী ফারজানাসহ চারজনকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের মা সূর্য বানু।