নিহত রবিউল হক সাঈদ ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের পূর্ব জয়পুর গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন এস্কেভেটর চালক ছিলেন।
ঘটনায় তার মা বিবি মরিয়ম বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে ও ৫-৬ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে ছাগলনাইয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।
.png)
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- প্রধান আসামি নেত্রকোণা জেলার বনগাঁও গ্রামের একদিল মিয়ার ছেলে ও ছাগলনাইয়ার চম্পক নগর এলাকার কাজী বাড়ির জামাতা রফিকুল ইসলাম (২২), ছাগলনাইয়ার চম্পক নগর এলাকার জেরু মিয়ার ছেলে বেলাল হোসেন শুভ (২২), একই গ্রামের রবিউল হকের ছেলে রুবায়েত হোসেন রাফি (১৯), একই গ্রামের নুরুল আমিনের ছেলে শেফাউল করিম রিহান (২২), বোরহান উদ্দিনের ছেলে গোফরান উদ্দিন (৩০), নাসির উদ্দিনের ছেলে মেহেরাব হোসেন সায়েম (১৮), মজিবুল হকের ছেলে নাসির উদ্দিন (৪২), জসিম উদ্দিনের ছেলে আশরাফুল ইসলাম রাকিব (২১), আবু তাহেরের ছেলে ইকবাল হোসেন সাব্বির (২৫)। তারা সবাই ছাগলনাইয়ার চম্পক নগর এলাকার বাসিন্দা। এছাড়াও এ ঘটনায় গ্রেফতার হন নোয়াখালীর চর জাব্বার থানার সমিতি বাজার এলাকার ইব্রাহিম হোসেনের ছেলে মো. ইমাম হোসেন (২২)। বাকি দুইজন এখনো পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন- চম্পকনগর এলাকার ওবায়দুল হকের ছেলে মো. নয়ন (২০) ও এরশাদ উল্লাহর ছেলে মো. শাকিল। আরো অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আতকিয়া মাহমুদা তাহা জানান, নিহতের বুকে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
ছাগলনাইয়া থানার ওসি সুদ্বীপ রায় পলাশ জানান, সাঈদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। প্রধান আসামির রিমান্ড মঞ্জুর ও অন্য আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
এর আগে, শুক্রবার বিকেলে ছোট বোনসহ শমসের গাজীর দীঘি এলাকায় ঘুরতে যান সাঈদ। সেখানে ১০-১২ জন বখাটে তার বোনকে অশালীন মন্তব্য করেন। প্রতিবাদ করলে পরে তারা দলবদ্ধভাবে হামলা করেন। ঘটনাটি মিমাংসা করার জন্য ইউপি সদস্য সজীব ফোন দিয়ে সাঈদকে ডেকে আনেন। সেখানে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোতাহের মেম্বারসহ বসার পর কথাবার্তার একপর্যায়ে বখাটেরা সাঈদের সঙ্গে তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে যান। মুহূর্তেই রফিকুল ইসলাম নামে এক বখাটে সাঈদকে জাপটে ধরে বুকে ছুরিকাঘাত করেন। এতে রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিক সায়েদকে উদ্ধার করে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।