মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) দুপুরে রাজবাড়ী জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রুবায়েত মো. ফেরদৌস ইয়াসমিনকে তার ভাই আনিসুরের হাতে তুলে দেন।
বাকপ্রতিবন্ধী ইয়াসমিনের বাড়ি যশোর জেলার সদর উপজেলার উপশহর ইউনিয়নে। তিনি ওই এলাকার ফজলুর রহমানের মেয়ে।
.png)
জানা গেছে, ২০২১ সালের কোরবানির ঈদের মধ্যে রাজবাড়ী জেলার কালুখালী থানা পুলিশ প্রতিবন্ধী ইয়াসমিনকে কালুখালি থেকে উদ্ধার করে। ইয়াসমিন বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় ঠিকানা বলতে না পারায় তখন তাকে জেলা সমাজসেবা অফিসে পাঠানো হয়। তখন সমাজসেবা কার্যালয় থেকে প্রতিবন্ধী ইয়াসমিনকে রাজবাড়ীর সরকারি শিশু পরিবারে হস্তান্তর করে। সেখানে প্রায় দুই বছর কেটে যায় তার। সমাজসেবা অফিস বিভিন্নভাবে ইয়াসমিনের ঠিকানা বের খুঁজে বের করার চেষ্টা করে। পরে তারা ইয়াসমিনকে নিয়ে রাজবাড়ী জেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে আঙুলের ছাপ নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য বের করে। পরে ঐ তথ্যের ভিত্তিতে ইয়াসমিনের পরিবারকে খুঁজে বের করে সমাজ সেবা কার্যালয়। পরে তার ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে ইয়াসমিনকে ভাইয়ের হাতে তুলে দেয় সমাজসেবা কার্যালয়।
ইয়াসমিনের ভাই আনিসুর রহমান বলেন, আমার বোন দুই বছর আগে যশোর থেকে হারিয়ে যায়। তাকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে পাওয়া যায়নি। আমার বোন মারা গেছেন অথবা পাচারকারী লোকজন তাকে পাচার করেছে এলাকার লোকজনের দেওয়া এমন তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থাও আমরা নেইনি। এলাকায় আমরা মাইকিং ও পোস্টার লাগিয়ে তার কোনো খোঁজও পাইনি। এভাবে কেটে যায় দুটি বছর।
তিনি আরও বলেন, গত সোমবার বাকপ্রতিবন্ধী বোনটির খোঁজ আসে যশোর জেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে। তারা জানান, আমার বোন রাজবাড়ী সমাজসেবা কার্যালয়ে আছে। পরে মঙ্গলবার আমি ও আমার খালু শহিদুল ইসলাম রাজবাড়ী জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে গেলে কর্মকর্তারা আমার বোন ইয়াসমিনকে আমাদের হাতে তুলে দেন। আমি বোনকে পেয়ে পরিবারের লোকজনসহ দারুণ খুশি। রাজবাড়ী জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের স্যারদেরকে অনেক ধন্যবাদ জানাই।
রাজবাড়ী জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার আবু মুসা বলেন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক স্যারের প্রচেষ্টায় প্রতিবন্ধী ইয়াসমিনকে তার পরিবারের ভাইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয় রাজবাড়ীর উপ-পরিচালক রুবাইয়াত ফেরদৌস বলেন, দুই বছর আগে কালুখালি থানা পুলিশ বাক প্রতিবন্ধী ইয়াসমিনকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করে। পরে তাকে আমরা সরকারি শিশু পরিবারে রেখে দিয়ে সেবা দিতে থাকি। ইয়াসমিনের ঠিকানা খুঁজে আজ তার ভাইয়ের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়েছে। ইয়াসমিনকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে আমার খুব ভালো লাগছে।