ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সৌদিতে যাওয়ার ৩ দিনের মাথায় মৃত্যুর খবর এলো ঝিনাইদহের গৃহবধূর

ঝিনাইদহ প্রতিনিথি
প্রকাশিত: ২০:৪২, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩
সৌদিতে যাওয়ার ৩ দিনের মাথায় মৃত্যুর খবর এলো ঝিনাইদহের গৃহবধূর
ছবিতে ছাবিনা খাতুন

গৃহকর্মী হিসেবে দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে যাওয়ার তিনদিনের মাথায় ছাবিনা খাতুন (২৪) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

দালালের মাধ্যমে পরিবারের কাছে খবর এসেছে, তিনি ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে মারা গেছেন। তবে পরিবারের অভিযোগ, তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। 

গৃহবধূ ছাবিনা খাতুন (২৪) ঝিনাইদহের সদর উপজেলার সাগান্না ইউনিয়নের বাথপুকরিয়া গ্রামের রুবেল হোসেনের স্ত্রী। এই দম্পতির দুই সন্তান আছে। 

Advertisement

স্বজনরা জানান, গত ২২ সেপ্টেম্বর বাথপুকুরিয়া গ্রামের দালাল রফিকুলের মাধ্যমে সৌদি আরব যান ছাবিনা খাতুন। ২৪ সেপ্টেম্বর সৌদি মালিকের বাসায় গিয়ে ছাবিনা দালালের কথার সঙ্গে কাজের কোনো মিল না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের কল করে বিষয়টি জানান। ২৫ তারিখ রফিকুলের মাধ্যমে স্বজনরা জানতে পারেন, ছাবিনা ভবন থেকে লাফ দিয়ে পড়ে মারা গেছেন। 

পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ছাবিনা অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আট তলার ভবন থেকে লাফিয়ে পড়েছেন। 

ছাবিনার স্বামী রুবেল হোসেন বলেন, দালাল রফিকুল আমাদের বলেছিলেন, মোটা অঙ্কের বেতন, তিন বেলা ঠিকমতো খাবার ও আকামাসহ সবকিছুই সৌদির মালিক বহন করবেন। কিন্তু খাবার, মালিকের ব্যবহার কোনো কিছুই ঠিকঠাক ছিল না বলে মৃত্যুর আগে ছাবিনা আমাদের জানিয়েছিল। 

রুবেল বলেন, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে দালাল তাকে বিক্রি করে দিয়েছেন বলে জানিয়ে ছিলেন ছাবিনা। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে লাশ ফেরত আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সে জন্য এই মুহূর্তে কোথাও অভিযোগ দেননি বলে জানান তিনি। 

গ্রামবাসীর অভিযোগ, দালাল রফিকুল এলাকার সহজ সরল কম বয়সী মেয়েদের ভালো কাজ ও বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে পাঠিয়ে নির্যাতন ও অর্থ আদায় করেন। কিছুদিন আগেও একই এলাকার হাসি বেগম নামের এক নারী রফিকুলের খপ্পরে পড়ে সৌদি আরব থেকে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে ও সর্বস্ব হারিয়ে দেশে ফিরেছেন। এখন সন্তান নিয়ে দিশেহারা ওই নারী। 

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য বাথপুকুরিয়া গ্রামের আকবর হোসেন বলেন, বিদেশে নারীকর্মী পাঠিয়ে রফিকুলের নির্যাতনের বিষয় নতুন না। এর আগেও বিভিন্ন মেয়েকে নির্যাতনের বিষয়ে সালিশ করেছি। কিন্তু দালাল রফিকুল তার অভ্যাস ছাড়েনি। 

সাগান্না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন শেখ বলেন, সাবিনা নামের একটি মেয়ে সৌদি আরবে মারা গেছে বলে জানি। তারা অনেক দরিদ্র, কিন্তু সেখানে সে কীভাবে মারা গেছে এ বিষয়ে জানি না। 

চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন শেখ আরও বলেন, সাবিনা যে দালালের মাধ্যমে বিদেশে গিয়েছিল সেই দালালের মাধ্যমে আমাদের গ্রামের অন্য একটি মেয়ে সৌদি আরবে গিয়েছিল। কিছুদিন পর মেয়ের পরিবার আমাকে জানায়, সেখানে তাকে নির্যাতন করা হচ্ছে, দেশে আনার ব্যবস্থা করেন। অনেক সালিশ করার পর দালালকে ২৫ হাজার টাকা দিয়ে মেয়েটিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। 

অভিযোগের বিষয়ে দালাল রফিকুল ইসলাম বলেন, ছাবিনা সৌদি আরবে যাওয়ার তিনদিনের মাথায় মারা গেছেন। তিনি উঁচু ভবন থেকে লাফ দিয়ে পড়ে মারা গেছেন। তবে তার ওপর কোনো পাশবিক নির্যাতনের তথ্য ময়নাতদন্তের রিপোর্টে নেই। 

সৌদিতে ছাবিনা নামের কোনো নারীর মৃত্যুর খবর জানেন না ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ সোহেল রানা। তবে অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
ট্যাগ: গৃহবধূ সৌদি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!