জামাল হোসেন বর্তমানে টুয়াখালীর কলাপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করেই আমাকে ইব্রাহিম বাংলা-দা দিয়ে পেটানো শুরু করে, কোনো কথাই বলার সুযোগ দেয় নাই। আমি তখন রাশেদকে বারবার ডাকলে ইব্রাহিম বলে ওকে (রাশেদ) কাইটা নদীতে ফালাইয়া দিছি। এরপরই আমাকে এলোপাতাড়ি কোপ আর পেটানো দিয়ে লাথি মাইরা পানিতে ফালাইয়া দেয়। প্রায় দুই ঘণ্টা নদীতে ভাসছি, কয়েকটি ছোট ছোট ট্রলার দেখে পাশে গেলেও অন্ধকারে দেখতে পায় নাই কেউ। ৩ ঘণ্টা পর কূল পাইছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘যখন সকাল হইছে তখন সাঁতরাতে সাঁতরাতে কূলে আইসা একটি ঘর দেখতে পাই। ঐ ঘরের লোকজনকে বলি ভাই আমারে বাঁচান। সাগরে মোগো ট্রলার ডাকাতি কইরা একজনকে খুন করছে, আমাকে কোপাইয়া পানিতে ফালাইয়া দেছে। কোন জায়গায় আমি উঠছি নাম কইতে পারমু না।’
.png)
চিকিৎসাধীন জামাল আরো বলেন, ‘এবার ট্রলারে মাছ বেশি পাওয়ায় লোভ সামলাইতে পারে নাই ইব্রাহিম। ঘুমন্ত অবস্থায় প্রথমে রাশেদকে পেট কেটে খুন করে ফালাইয়া দেয়, পরে আমারে কোপাইতে থাকে।’
শুক্রবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতের দিকে কূলে ফেরার পথে পটুয়াখালীর গলাচিপার পানখালীর দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে একটি ট্রলারের মালিক রাশেদকে হত্যা করে লাশ পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। এ সময় ট্রলারের আরেক জেলে জামালকে কুপিয়ে জখম করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। পরে ট্রলারসহ মাছ লুট করে বিক্রি করতে এসে জনতার হাতে ধরা পড়েন জেলে ইব্রাহিম (৩৮)।
এ সময় ইব্রাহিমকে পুলিশে সোপর্দ করেন স্থানীয় জনতা। নিহত জেলের নাম রাশেদ খান (৩২)। তিনি পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ এলাকার আলতাফ হোসেনের ছেলে ও লুট হওয়া ট্রলারটির মালিক। এ ঘটনায় জেলে জামাল হোসেনকেও (৩০) কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। বর্তমানে জামাল হাসপাতালে ভর্তি। আটক ইব্রাহিমের বাড়ি বরগুনার তালতলী উপজেলার অঙ্কুজান পাড়ায়।
এদিকে, ঘটনার দুইদিন অতিবাহিত হলেও রাশেদের মরদেহ পাওয়া যায়নি। এমন নির্মমভাবে হত্যার বিচার চায় নিহতের পরিবার। তারা বলেন, নির্মমভাবে ঘুমন্ত অবস্থায় একটি জীবন্ত মানুষকে হত্যা করলো, আমরা এর বিচার চাই।
পাথরঘাটা থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, আটক ইব্রাহিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আমরা ট্রলার জব্দ করে আসামি ইব্রাহিমকে রাঙ্গাবালী থানায় হস্তান্তর করেছি।