রোববার সকালে তাকে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে, শনিবার (২৯ জুন) রাতে শ্রীপুর পৌরসভার মার্কাজ মসজিদ সড়ক (কাঁচা বাজার) এলাকার নিজ বাসার চেম্বার থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় মামলা করেন ভিকটিমের মা।
গ্রেফতারকৃত চিকিৎসক ফরহাদ উজ্জামান শ্রীপুর পৌরসভার মার্কাজ মসজিদ সড়ক (কাঁচা বাজার) এলাকার মৃত অ্যাডভোকেট আবুল হাসেমের ছেলে।
.png)
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শ্রীপুর থানার ওসি আকবর আলী খান।
ভিকটিম ময়মনসিংহ জেলার বাসিন্দা এং তার বাবা রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে । সে তার বাবা-মার সাথে শ্রীপুরে ভাড়া বাসায় থেকে ওই চিকিৎসকের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতো। তাকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজ উদ্দিন আহমদ মডিকেল কলেজ হাসাপাতালে পাঠানো হবে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২১ জুন (শুক্রবার) সকাল সড়ে ৬টায় অভিযুক্ত চিকিৎসক তার বাসার গৃহকর্মীকে নিজ চেম্বারে নিয়ে পূর্বের ধারণকৃত ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে ভিকটিমের মা সখিনা বেগম বিষয়টি জানতে পেরে ভিকটিমকে উদ্ধার করে নিজের বাড়ি নিয়ে যায়।
ভিকটিমের মা বলেন, দুইমাস আগে ওই চিকিৎসকের সঙ্গে আমার পরিচয় হওয়ার পর তিনি আমার মেয়েকে তার বাসায় কাজ করার জন্য বলেন। পরে আমি মেয়ের বাবার সঙ্গে পরামর্শ করে তার বাসায় মেয়েকে কাজ করার জন্য দিয়ে আসি। কয়েকদিন পর আসামি আমার মেয়েকে ধর্ষণ করেন এবং ওই ভিডিও তার মোবাইলে ধারণ করেন। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অভিযুক্ত তার বাসার চেম্বারে একাধিকবার আমার মেয়েকে ধর্ষণ করেন।
বিষয়টি মেয়ে আমাকে জানালে চিকিৎসকের বাসা থেকে আমার মেয়েকে নিয়ে আসি। নিয়ে আসার পরই অপরিচিত একটি মোবাইল নম্বর থেকে আমার মোবাইলে কল করে মেয়েকে ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। শনিবার (২৯ জুন) সকালে আমার এক আত্মীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়ের আপত্তিকর ভিডিও দেখতে পেয়ে ফোন করে জানান। পরে আমি ওইদিন সন্ধ্যায় থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দিলে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
শ্রীপুর থানার ওসি আকবর আলী খান জানান, ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা অভিযুক্ত চিকিৎসক ফরহাদ উজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করলে রাতেই তাকে তার বাসার চেম্বার থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।