মৃতরা হলেন- আত্রাই উপজেলার তেজনন্দি গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে ফারুক হোসেন (৪০), শিকারপুর গ্রামের সাহাদ আলীর ছেলে এনামুল হোসেন (২৫) এবং দিঘা স্কুলপাড়া গ্রামের কবেজ আলীর ছেলে শুকবর আলী (৪০)। খবর পাওয়ার পর থেকে তাদের পরিবারে চলছে মাতম।
শুক্রবার (৫ জুলাই) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে উপজেলার দিঘা গ্রামে নিহত শুকবর আলীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, দূর-দূরান্ত থেকে নিহতদের আত্মীয়-স্বজনরা এসেছেন বাড়িতে। প্রতিবেশীদের মধ্যে কান্নার রোলে যেন আকাশ ভারী হয়ে এসেছে।
.png)
নিহত শুকবর আলীর জামাতা বিদ্যুৎ বলেন, আমার শ্বশুর কৃষি শ্রমিক ছিলেন। আড়াই বছর আগে জমি বিক্রি ও ধারদেনা করে সৌদি আরবে যান। এখন পর্যন্ত ধারের টাকা শোধ করতে পারেননি। আমার শ্বশুরের দুই ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলেদের মধ্যে বড় ছেলে শামিম হোসেন প্রতিবন্ধী। বসতভিটার তিন শতক জায়গা ছাড়া আর কোনো জমি নেই। শ্বশুর শুকবর আলীই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।
শুকবর আলীর মেয়ে বলেন, বুধবার সকাল ১০টার দিকে বাবার সঙ্গে কথা বলেছি, কথা বলতে বলতে বাবা বললো মা আমি এখন ঘুমাব। এরপর কল কেটে দিয়েছে। সন্ধ্যার দিকে জানতে পারি বাবার ফ্যাক্টরিতে আগুন লেগেছে। আমাদের সেই সামর্থ্য নেই যে টাকা দিয়ে বাবাকে দেশে নিয়ে আসব।
তেজনন্দি গ্রামের নিহত ফারুক হোসেনের ভাতিজা পিন্টু আলী বলেন, আমার চাচা আগে গার্মেন্টসে কাজ করতেন। ছয় বছর আগে ধারদেনা করে সৌদি আরবে যান। সেখানে তিনি নানা সমস্যার মধ্যে ছিলেন। আট মাস আগে রিয়াদ শহরের মুসাসানাইয়া এলাকার একটি সোফা তৈরির কারখানায় যোগ দেন। বুধবার রাত ১০টার দিকে সৌদি থেকে ফোন করে জানানো হয়, আগুনে পুড়ে ফারুক হোসেন মারা গেছেন। আমরা দ্রুত মরদেহ দেশে আনার দাবি জানাচ্ছি।
নিহত এনামুলের চাচা জাহিদুল বলেন, এনামুল আগে গার্মেন্টসে কাজ করতেন। ধারদেনা করে এক বছর আগে সৌদি আরবে যান। তার পাঠানো টাকায় গ্রামের বাড়িতে একটি ইটের বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। আগামী বছর দেশে ফিরে তার বিয়ে করার কথা ছিল। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আগুনে পুড়ে মারা যাওয়ার খবর আসে। একমাত্র ছেলেকে হারানোর শোকে মা–বাবা পাথর হয়ে পড়েছেন। কিছুতেই যেন তাদের বুঝ দিয়ে থামানো যাচ্ছে না। মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা জানাচ্ছি।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্চিতা বিশ্বাস বলেন, সৌদি আরবে আগুনে পুড়ে তিনজনের নিহত হওয়ার তথ্য পরিবারের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। যেহেতু সৌদি আরব অনেক বড় দেশ। সেখানে কোন প্রদেশে তারা থাকেন সেটাতো আমরা জানি না। তাই নিহতদের পাসপোর্টের কপিগুলো বা জাতীয় পরিচয়পত্র পেলে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সৌদিতে যোগাযোগ করে দ্রুত মরদেহ আনার ব্যবস্থা করতে পারব। মরদেহ দেশে আনতে এবং সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা থাকলে সে ব্যাপারে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে বলে জানান তিনি।