বুধবার (২১ আগস্ট) সকালে মহাদেবপুর উপজেলার খোশালবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত এনামুল ও তার ভাগ্নেকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে ও আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, টিউবওয়েলর পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন পরিষ্কার করেন ছাফতুল আলী মন্ডলের ছেলে শাহাদাত হোসেন। ড্রেন পরিষ্কারের কথা জানতে পেরে এক সপ্তাহ পরে প্রতিবেশী আবুল হোসেন ও তার ছেলে ফিরোজ হোসেন বুধবার সকালের দিকে শাহাদাতের বাড়ি গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি শুরু করেন।
.png)
প্রতিবাদ জানালে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আসেন ফিরোজ হোসেন এবং একপর্যায়ে ছাফতুল আলী মন্ডলের ছোট ছেলে এনামুলকে মাথায় কোপ দেন ও এবং এনামুলের ভাগ্নের হাত ভেঙে দেন। পরিবারের আরো সদস্য রেজাউল ও হাফিজুল রহমানের স্ত্রী এগিয়ে এলে তাদেরকেও বেধড়ক মারধর ও শ্লীলতাহানি ঘটান আবুল হোসেন।
শাহাদাত হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সঙ্গে তারা শত্রুতা করে আসছে। আমি ড্রেন পরিষ্কার করেছি সাত দিন আগে। কারণ, অতিরিক্ত গাছের পাতা পড়ে ড্রেন বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। পাশাপাশি তাদের বাড়ির পানিও এই ড্রেন দিয়ে যায়। আজকে সকালে আমার বাড়িতে গিয়ে আমাকেসহ আমার ভাই ও ভাবিদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। প্রতিবাদ করলে আবুল হোসেন ও তার ছেলে ফিরোজ রামদা দিয়ে আমার ছোট ভাইয়ের মাথায় কোপ দেয় আর আরেক ভাইয়ের হাত ভেঙে দেয়।
কিছুদিন আগেও আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। এলাকাবাসী উদ্ধার করেছে। আমাদের পরিবারের ওপর বারবার তারা হামলা চালায়। মাঝে মাঝে নিজেকে অসহায় মনে হয়। কারণ, আমি মারামারি পছন্দ করি না বলেই তারা এ সুযোগ নেয়।
তিনি আরো বলেন, আবুল হোসেন একজন পুরুষ মানুষ হয়েও আমার ভাবির গায়ে হাত দেয় এবং শ্লীলতাহানি ঘটায়। তাদের কাছে সবসময় অস্ত্র থাকে। তাদের অত্যাচারে আমরা সবাই অতিষ্ঠ। এটার সুষ্ঠ বিচার দাবি জানাই।
ভাগ্নে সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমার মামাদের প্রতি সবসময় অত্যাচার করে পাশের বাড়ির প্রতিবেশী আবুল হোসেন ও তার ছেলে ফিরোজ। আজ সকালে হঠাৎ গালাগালি শুরু করে আবুল। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আমার মামা এনামুলকে রামদা দিয়ে মাথায় কোপ দেয়, তখন আমরা সবাই দিশেহারা হয়ে যাই এবং ফিরোজকে আটকাতে যাই। সে আমার হাত ধরে এবং প্রচণ্ড আঘাত করতে থাকে। একপর্যায়ে আমার হাত ভেঙে যায়।
মহাদেবপুর থানার ওসি মো. রুহুল আমিন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।