ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

অনুদান পেতে ৪ ইউএনওর স্বাক্ষর জাল করে মন্ত্রণালয়ে জমা!

মো. রনি মিয়াজী, পঞ্চগড়
প্রকাশিত: ১৫:৩৬, ১৮ অক্টোবর ২০২৪
অনুদান পেতে ৪ ইউএনওর স্বাক্ষর জাল করে মন্ত্রণালয়ে জমা!
গ্রাফিক্স: ডেইলি বাংলাদেশ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানাগারের যন্ত্রপাতি ক্রয়সহ আর্থিক অনুদান পেতে পঞ্চগড় জেলার ৪ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করার ঘটনা ঘটেছে। দেখা গেছে, কর্মকর্তাদের অফিশিয়াল প্যাড, লোগো, সিল ও স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া প্রত্যয়ন বানিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে জমা করা হয়।

শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে এমন জালিয়াতির ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন পঞ্চগড়, তেঁতুলিয়া, বোদা ও আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা। এ ঘটনার পর থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সবাই।

উপজেলা প্রশাসন বলছে, শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবগত করে এরইমধ্যে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Advertisement

জানা যায়, জেলার ৫ উপজেলায় স্কুল-কলেজ ও মাদরাসাসহ মোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ৪৮১টি। আর এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে মাধ্যমিকের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে আর্থিক অনুদান পেতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে প্রত্য়য়নের আবেদন করে। তার মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ে রেজিস্টার ভুক্ত করে কয়েকটি বিদ্যালয়কে প্রত্যয়ন প্রদান করেন ইউএনও’রা। এর মাঝে একটি সেই সিল ও স্বাক্ষর জাল করে তাদের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে সেই আবেদন আবারো জমা করে। মন্ত্রণালয় থেকে আরেক দফা যাচাই-বাছাইয়ে অবগত করলে জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসে উপজেলা প্রশাসনের।

জালিয়াতির বিষয়ে ডেইলি বাংলাদেশের সঙ্গে কথা হয় পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার জন্য পঞ্চগড় সদর উপজেলা থেকে দুইটি প্রতিষ্ঠানকে প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে জানিয়েছে সেখানে আটটি আবেদন জমা হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি আবেদন জাল পাওয়া গেছে। সেগুলোতে দেখা গেছে প্যাড, লোগো, সিল ও স্বাক্ষর এবং স্বারক নকল করা হয়েছে। বিষয়টি শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবগত করা হয়েছে এবং ভুয়া প্রত্যয়নপত্র তৈরি করার দায়ে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তার জন্য আগামী ১০ দিনের সময় দিয়ে বিদ্যালয়গুলোকে শোকজ করা হয়েছে।

জেলার বোদার ইউএনও শাহরিয়ার নজির বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবেদনের প্রেক্ষিতে অফিশিয়ালিভাবে পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে প্রত্যয়ন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে দুইদিন আগে জানানো হয়েছে সেখানে আর্থিক অনুদানের জন্য নয়টি আবেদন জমা হয়েছে। এর পর সেগুলোর কপি পাঠালে জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হই। এখন আবেদনগুলো স্থগিত রেখে তদন্তে শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়।

তেঁতুলিয়ার ইউএনও ফজলে রাব্বী বলেন, আমার দায়িত্বের উপজেলা থেকে মন্ত্রণালয়ে ১০টি অনুদানের আবেদন জমা হয়েছিল বলে মন্ত্রণালয় জানায়। প্রাথমিক যাচাইয়ে বিষয়টি আমাদের অবগত করলে আমরা একটি প্রত্যয়ন দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছি এবং সেই প্রতিষ্ঠানের নাম জানিয়েছি। দেখা গেছে, বাকি নয়টি আবেদন আমার প্যাড, লোগো, সিল ও স্বাক্ষর এবং স্বারক নকল করে মন্ত্রণালয়ে জমা করেছে। পরে শিক্ষা কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকদের ডেকে মৌখিকভাবে জালিয়াতির বিষয়টি জানানো হয়। তবে কোনো শিক্ষকের সঠিক উত্তর মেলেনি।

এদিকে, ফাইল বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাড়া অন্য কারো মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে জমা করার কোনো সুযোগ নেই। যেহেতু ছুটির দিন পড়ে গিয়েছে তাই আমরা এর সঠিক কারণ দর্শানোর জন্য আগামী রোববার (২০ অক্টোবর) লিখিত আকারে তাদের শোকজের নোটিশ করবো। এর পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে, যোগ করেন ইউএনও ফজলে রাব্বী।

আটোয়ারীর ইউএনও শাফিউল মাজলুবিন রহমান বলেন, তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আমি প্রত্যয়নপত্র দিয়েছি। কিন্তু মন্ত্রণালয় বলছে ছয়টি আবেদন জমা হয়েছে। আমার দেওয়াগুলো নিশ্চিত করতে আমার কাছে থাকা পূর্বের তিনটি কপি আবার মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। এখন দেখা গেছে, অন্য তিনটি আবেদন জাল। এ বিষয়ে শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবগত করে বিষয়টি তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, দেবীগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তুরাব হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত এমন জালিয়াতির কোনো খবর পাইনি। জালিয়াতির এমন বিষয় অবগত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে পঞ্চগড় জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল মালেক বলেন, জেলার বোদা ও তেঁতুলিয়া উপজেলার ইউএনও মহদয়রা জালিয়াতির বিষয়টি মৌখিকভাবে আমাকে অবগত করেছে। আমি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের তদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছি। তদন্ত শেষে আমরা আমাদের রিপোর্ট ইউএনও বরাবর জমা করবো। পরবর্তীতে এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন তারা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!