গ্রেফতারকৃতরা হলেন- গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থানার বজ্রাকুঞ্চিবাড়ি এলাকার কাছু শেখের ছেলে সাইফুল ইসলাম, উত্তর শ্রীপুর গ্রামের নাসির আলীর ছেলে সাজু মিয়া, কালিরখামার গ্রামের গয়সাল ব্যাপারীর ছেলে মো. সাজু, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থানার ইমামপুর গ্রামের রবিউল আওয়ালের ছেলে মো. রিয়াদ, আজিজুর রহমানের ছেলে মো. সজিব, ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার থানারকান্দি গ্রামের তপদর হোসেনের ছেলে মো. রবিউল, মাদারীপুরের শিবচরের টিংরামারী গ্রামের আলী আকবরের ছেলে মো. মানিক, নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার দক্ষিণ কুলচরিত্র গ্রামের আবুল কালামের ছেলে রিপন সর্দার, পটুয়াখালীর গলাচিপার চরবিশ্বাস গ্রামের আবদুল হক হাওলাদারের ছেলে রিপন হাওলাদার।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১১ কুমিল্লা অঞ্চলের উপ-পরিচালক মাহমুদুল হাসান।
.png)
তিনি জানান, গত ২৭ অক্টোবর বিকেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম এলাকায় র্যাব পরিচয়ে বিকাশ কর্মচারীর গাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ডাকাত দল বিকাশ কর্মচারীদের কাছ থেকে ২৫ লাখ ৯২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় বিকাশ ডিস্ট্রিবিউশনের ম্যানেজার বাদী হয়ে চৌদ্দগ্রাম থানায় অজ্ঞাত ৩-৪ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে ডাকাতির ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি ও ছায়াতদন্ত শুরু করে র্যাব।
মাহমুদুল হাসান জানান, এক পর্যায়ে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় চান্দিনা থানাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর ২ জন ব্যক্তি ডাকাতির শিকার হয়েছেন এবং ডাকাত দল ঢাকার দিকে যাচ্ছে। পরে র্যাব-১১ এর একটি দল তাৎক্ষণিক দাউদকান্দি টোল প্লাজা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৯ আসামিকে গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩৫ হাজার ৩৫৮ টাকা, ৩টি র্যাব জ্যাকেট, ১টি নকল পিস্তল, ১টি পিস্তল কভার, ১টি স্বর্ণের চেইন, ২টি আংটি, ১টি ইলেকট্রিক শকার, ২টি ওয়াকি টকি, ৭টি মোবাইল, ২টি র্যাব মনোগ্রামযুক্ত স্টিকার, ১টি লাঠি, ৩টি টর্চলাইট, ১টি ওয়ারলেস টকিং টুল, ১টি হ্যান্ডকাফ, ৮টি মানিব্যাগ, ১টি প্রাইভেটকার ও ১টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা ডাকাতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে স্বীকার করেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে।
র্যাব-১১ এর উপ-পরিচালক আরো জানান, গ্রেফতারকৃতরা সংঘবদ্ধ একটি আন্ত:জেলা ডাকাত চক্র এবং চক্রের মূল হোতা মো. সাইফুল ইসলাম। এই চক্রে ১০-১২ জন সদস্য রয়েছে। সাইফুলের নেতৃত্বে তারা প্রায় ১/২ বছর যাবৎ কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় র্যাব পরিচয়ে ডাকাতি করে আসছিল।
গত ২৭ অক্টোবর বিকেলে ডাকাতির উদ্দেশে চৌদ্দগ্রাম থানাধীন কালী কৃষ্ণনগর এলাকায় চট্টগ্রাম-ঢাকাগামী রাস্তার ওপর তাদের বহনকৃত মাইক্রোবাস নিয়ে অবস্থান করছিল। এ সময় বিকাশের দুই কর্মচারী তাদের সঙ্গে থাকা টাকা নিয়ে কান্দিরপাড় অফিসে পৌঁছানোর জন্য প্রাইভেটকারে ঐ রাস্তা ব্যবহার করে কুমিল্লা শহরের দিকে আসছিল। একটি মোটরসাইকেল যোগে ২ ডাকাত আগে থেকেই বিকাশের প্রতিনিধিদের অনুসরণ করে ডাকাত দলের নেতাকে তথ্য সরবরাহ করে যাচ্ছিল। সেই সুযোগে সাইফুলের নির্দেশে আসামিরা হাইয়েস গাড়ি ব্যবহার করে বিকাশ কর্মচারীদের পথরোধ করে। এ সময় ডাকাত দলের ৩-৪ জন সদস্য বিকাশ কর্মচারীদের টাকা ভর্তি ব্যাগটি ছিনিয়ে নেয় এবং তাদের জিম্মি করে গাড়িতে তুলে নেয়। পরবর্তীতে গাড়ির ভেতর বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে। এক সময় তাদের হাত-পা বেঁধে চান্দিনা এলাকায় ফেলে চলে যায়।
গ্রেফতারকৃতদের চৌদ্দগ্রাম থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান র্যাব-১১ কুমিল্লা অঞ্চলের উপ-পরিচালক মাহমুদুল হাসান।