শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে ট্রেনটি ওই স্টেশনে আটকে দেওয়া হয়। পরে রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা হয়। আলোচনা সভায় আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জগতি রেলস্টেশনে যাত্রীবাহী ট্রেন থামবে বলে স্থানীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দেয়। পরে আন্দোলনকারীরা তাদের বিক্ষোভ সমাবেশ প্রত্যাহার করেন। পরে সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে ট্রেনটি ছেড়ে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, জগতি রেলস্টেশনের ১৬২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার বিকেল ৪টায় স্টেশন প্রাঙ্গণে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভা থেকে ৬টি দাবি জানানো হয়। এ সভা চলাকালে ট্রেনটি ওই স্টেশন অতিক্রমের চেষ্টা করলে স্থানীয়রা আটকে দেন।
.png)
বিক্ষোভকারীরা বলছেন, আজকে থেকেই জগতি রেলস্টেশনে মেইল ট্রেনের যাত্রা বিরতি দিতে হবে। অন্যথায় কোনোভাবেই বেনাপোল এক্সপ্রেসকে জগতি ক্রস করতে দেওয়া হবে না।
ছয়টি দাবি হলো- জগতি রেল-ভবনের সংস্কার করতে হবে, জগতি রেলস্টেশনকে আধুনিকায়ন করতে হবে, বাংলাদেশের প্রথম রেলস্টেশন হিসেবে অত্র এলাকাবাসীকে সব যাত্রা বা ভ্রমণের ব্যবস্থা করতে হবে, জগতি স্টেশনের টিকিট অনলাইনে কেনার ব্যবস্থা করতে হবে, জগতি রেলস্টেশনের প্রথম রেল ভবনকে প্রত্নতাত্ত্বিক মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং জগতি রেলস্টেশনের পুরোনো ভবনের ছবি অনলাইন টিকিটের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ১৮৪৪ সালে আর. এম স্টিফেনসন কলকাতার কাছে হাওড়া থেকে পশ্চিম বাংলার কয়লাখনি সমৃদ্ধ রানীগঞ্জ শহর পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের জন্য ইস্ট ইন্ডিয়া রেলওয়ে কোম্পানি গঠন করেন। এ কোম্পানি ১৮৫৪ সালে হাওড়া থেকে হুগলি পর্যন্ত ৩৮ কিলোমিটার রেললাইন চালু করে। এরপর ১৮৬২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে কলকাতা থেকে রাণাঘাট পর্যন্ত রেলপথ চালু করে। এই লাইনকেই বর্ধিত করে ওই বছরের ১৫ নভেম্বর কুষ্টিয়ার জগতি পর্যন্ত ৫৩.১১ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেললাইন শাখা উন্মোচন করা হয়। সেসময়ই প্রতিষ্ঠিত হয় পূর্ববঙ্গের প্রথম রেল স্টেশন জগতি।
উল্লেখ্য, আধুনিকায়নের জন্য প্রকল্প হাতে নেয়া হলেও প্রায় ৩০০ বিঘা জমির ওপর নির্মিত দেশের প্রথম চালু হওয়া জগতি রেলস্টেশনটির এখন জীর্ণ দশা। নান্দনিক দোতলা ভবনসহ অন্যান্য স্থাপনা কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দেড়শ’ বছরের বেশি পুরোনো স্টেশনটি এক সময় সারাদিন রমরমা ও হাঁকডাক থাকলেও এখন নিষ্প্রাণ। অফিসিয়ালি কোনো ট্রেন থামে না। তাই ঘণ্টা বাজে না, বিক্রি হয় না টিকিট। স্টেশনটির সংস্কার করে এর বিশাল জায়গা কাজে লাগিয়ে আগের রূপে ফিরিয়ে আনার দাবি জনসাধারণের।
নথিপত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার গোড়াপত্তন হয় ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর। ভারতের রানাঘাট থেকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা হয়ে কুষ্টিয়ার জগতি পর্যন্ত রেলপথ চালু হয়। কুষ্টিয়ার জগতিতে নান্দনিক দোতলা স্টেশন নির্মাণ করা হয়।
শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ৩০০ বিঘা জমির ওপর নির্মাণ করা হয় স্টেশনটি। দেশের রেল যোগাযোগের শুরুটা হয় কুষ্টিয়ার জগতি স্টেশনের মাধ্যমে। সেটাও আজ থেকে প্রায় ১৬১ বছর আগে। ভারতের রানাঘাট থেকে প্রতিদিন যাত্রী ও মালামাল বোঝাই ট্রেন আসত জগতি স্টেশনে। সেই সময় থেকে হাঁকডাকে মুখর থাকতো স্টেশনটি।