কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, জমিতে শস্য বিন্যাস সজ্জিতকরণ ও নতুন জাতের ধান আবাদের ফলে শস্যের নিবিড়তা ও ফলন বেড়েছে। নবান্ন হচ্ছে হেমন্তের প্রাণ। নতুন ধানের চাল দিয়ে তৈরি পিঠা, পায়েস, ক্ষীরসহ নানা রকম খাবারে মুখরিত হয়ে ওঠে বাঙালির প্রতিটি ঘর। নতুন ধানের পিঠা-পায়েসের ঘ্রাণে ভরে ওঠে চারপাশ। নতুন ধান ঘরে আসার পর শুরু হয় চালের তৈরি পিঠাপুলি খাওয়ার নবান্ন উৎসব।
সরেজমিন উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের খামা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের এক কোনায় ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজ করছেন কয়েকজন কিষান-কিষানি। পাশেই ফসলের ক্ষেত। নবান্নের আনন্দে আমন ধান কাটার ধুম লেগেছে।
.png)
শনিবার বিকেলে উপজেলার খামা নতুন বাজার এলাকায় আমন ধান কর্তনের মধ্য দিয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নবান্ন উৎসব পালন করা হয়। এসময় ইউএনও মো.বিল্লাল হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুর-ই আলম, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল হক শামীম, হামিমুল হক সোহাগ, রেজাউল করিম ও জনিসহ স্থানীয় কৃষষেরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলার জাঙালিয়া, চরফরাদী, এগারসিন্দুর, বুরুদিয়া, পাটুয়াভাঙা, হোসেন্দী, নারান্দী, চণ্ডিপাশা, সুখিয়া ও পৌর সদরের বিভিন্ন এলাকায় মাঠে চলছে ধান কাটা ও মাড়াই। বাড়ির উঠানে নতুন ধানের স্তুপ।
কৃষকরা জানান, সাধারণত হেমন্তের এই সময় তাদের আমন ধান ঘরে তোলার কথা। কিন্তু চলতি বছর অতিমাত্রার বৃষ্টি, ইঁদুর ও পোকা-মাকড়ের আক্রমণে ফসলের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তারপরও যে ফলন এসেছে তা ধুমধামে কাটছেন।
সৈয়দগাঁও গ্রামের কৃষক কদ্দুছ মিয়া বলেন, এবার ৩৩ শতাংশ জমিতে আমনের আবাদ করেছি। বৃষ্টির পানি বেশি দিন ক্ষেতে না থাকায় ফলন তেমন ভালো হয়নি। এছাড়াও শ্রমিকের দাম বেশি, তাই ধান কাটা-মাড়াই কিছুটা ধীরে হচ্ছে।
দক্ষিণ খামা গ্রামের কিষানি রহিমা খাতুন বলেন, বাড়ির সবাই মিলে কাজ করে নতুন ধান ঘরে তুলছি। এখন রোদে শুকাচ্ছি। শুকানোর পর ঢেঁকিতে চাল গুঁড়ো করে রাখব। দিন পনের পর মেয়ে ও জামাইসহ আত্মীয়স্বজনকে নিমন্ত্রণ করে নতুন চালের পিঠা খাওয়াব।
উপজেলার আদিত্যপাশা গ্রামের কৃষক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, সমৃদ্ধির ঋতু হেমন্ত যখন আসে তখন ফসল তোলায় বঙ্গজননী তার দ্বার খুলে দেয়। যুগযুগ ধরে বাঙালি নবান্নের ধারা অব্যাহত রেখেছে। তবে যারা এত পরিশ্রম করেন, সেই কৃষক ফসলের ন্যায্য মূল্য পেলে সার্থক হবে বাংলার নবান্ন।
আঙিয়াদী ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হামিমুল হক সোহাগ বলেন, নতুন ধান নিয়ে কৃষকের যেমন ব্যস্ততা, তেমনি আনন্দও। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা খুশি। অনেকের বাড়িতে চলছে পিঠা-পায়েস খাবারের প্রস্তুতি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুর-ই আলম বলেন, উপজেলায় এবার উফশী ও স্থানীয় জাতের ১০ হাজার ৫৪০ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। আবাদ লক্ষ্যমাত্রাা চেয়ে পাঁচ হেক্টর বেশি হয়েছে। শস্য বিন্যাস সজ্জিতকরণের ফলে বর্তমানে শস্যের নিবিড়তা ও ফলন বেড়েছে।
পাকুন্দিয়ার ইউএনও মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, আবহমান কাল থেকে গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে নবান্ন উৎসব পালন হয়ে আসছে। এই একটি উৎসব যা সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ও অসাম্প্রদায়িক। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই যেখানে নবান্নে মেতে উঠে। প্রায় সবার বাড়িতে পিঠা, পুলির পসরা বসে।