ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

এমপি-বিএনপি নেতার পাল্টাপাল্টি পোস্ট, উত্তপ্ত ফেসবুক

ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:৩২, ৮ আগস্ট ২০২৬
এমপি-বিএনপি নেতার পাল্টাপাল্টি পোস্ট, উত্তপ্ত ফেসবুক
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঝালকাঠিতে বিএনপির দুই নেতার পাল্টাপাল্টি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। নিজ নিজ নেতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন দলটির নেতাকর্মীরাও।

ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ও দলের কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম জামাল এবং জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাত হোসেনের পোস্ট ঘিরেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন এমপি রফিকুল ইসলাম জামাল। সেখানে তিনি বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধ করার আহ্বান জানান।

Advertisement

পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, গত কয়েক মাসে দলের কিছু নেতাকর্মী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাহারা দিয়েছেন। তাদের পক্ষে ওকালতি করেছেন। বাড়িঘর পাহারা দিয়েছেন। ঠিকাদারি নিয়েও সুবিধা নিয়েছেন। এমনকি অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিএনপিতে যোগদানের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।

জামাল আরও লেখেন, যারা রক্ত দিয়ে আন্দোলন করেছেন, তাদের স্মরণে ৫ আগস্ট দোয়া-মোনাজাত না করে অনেকেই শুধু পদ-পদবি পাওয়ার জন্য ব্যস্ত। এ ধরনের নেতাকর্মীদের দল থেকে ঝরে পড়ার কথাও বলেন তিনি।

এর একদিন পর শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে ফেসবুকে পোস্ট দেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাত হোসেন। তিনি সরাসরি কারও নাম উল্লেখ না করে কয়েকটি প্রচলিত প্রবাদ লেখেন। তার পোস্ট নিয়েও শুরু হয় আলোচনা।

এরপর দুই নেতার অনুসারীরা ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি মন্তব্য করতে থাকেন। কেউ এমপি জামালের বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান নেন। আবার কেউ তার নিজের রাজনৈতিক বলয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

এ ঘটনায় মুখ খুলেছেন বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা গোলাম আজম সৈকতও। এক দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে তিনি এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের রাজনৈতিক অতীত নিয়ে নানা অভিযোগ করেন।

সৈকত দাবি করেন, ২০০১ সালের আগে রফিকুল ইসলাম জামালকে তেমন কেউ চিনতেন না। পরে তৎকালীন এমপি ও মন্ত্রী শাহজাহান ওমর বীর উত্তমের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।

২০০৮ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শাহজাহান ওমর নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় রফিকুল ইসলাম জামালকে বিকল্প হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন সৈকত।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন সুবিধার বিনিময়ে বিএনপিতে অনুপ্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয় শক্তিশালী করার চেষ্টা হয়েছে বলেও দাবি তার।

এদিকে একই আসনে জামায়াত সমর্থিত ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ড. ফয়জুল হকও জামালের পোস্টের সমালোচনা করেছেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড়ইয়া ইউনিয়নে ভোট কারচুপি ও কেন্দ্র দখলের মাধ্যমে জামাল এমপি হয়েছেন। তার ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।

ফয়জুল হক আরও অভিযোগ করেন, রাজাপুর ও কাঁঠালিয়ায় চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও সন্ত্রাসীদের নিয়ে রাজনীতি করেছেন জামাল। হঠাৎ আওয়ামী লীগবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার পেছনে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এমপি রফিকুল ইসলাম জামাল।

মুঠোফোনে তিনি বলেন, “আমি আমার দলকে সঠিক জায়গায় রাখার জন্য নিজ দলীয় নেতাকর্মীদেরই নির্দেশনা দিয়েছি। এখানে আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো দলকে বলা হয়নি। শহীদ জিয়ার হাতে গড়া বিএনপির সুনাম যাতে কারও কারণে ক্ষুণ্ন না হয়, সে জন্যই এ কথা বলেছি।”

এদিকে গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সদর উপজেলার কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সভায় একটি ঘটনা নিয়েও আলোচনা চলছে। সভায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আ. রহিম মিয়া বিএনপির নেতাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে তাদের চেয়ারম্যানের কক্ষে নিয়ে আপ্যায়ন করেন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ নেতার বিএনপিতে যোগদানের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে দলবদল বা বিএনপিতে যোগদানের কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

সব মিলিয়ে ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ফেসবুকের পাল্টাপাল্টি পোস্টে সেই উত্তাপ আরও ছড়িয়ে পড়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: ঝালকাঠি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!