জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সিরাজগঞ্জে ২ হাজার ৭২৫ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ১ হাজার ৭৩৮ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের সবজি চাষ হয়েছে। শীত মৌসুমে এ চাষের পরিধি আরও বাড়বে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
কৃষকেরা জানান, আগাম জাতের সবজি চাষে তুলনামূলক বেশি লাভের পাশাপাশি দ্রুত নগদ টাকা পাওয়া যায়। এ কারণে প্রতিবছরই এ চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। জেলায় সারা বছরই নানা ধরনের সবজি চাষ হয়। বর্তমানে জমিতে ফুলকপি, বিভিন্ন ধরনের শাক, শসা, শিম, বেগুন, মূলা, লাউ, মরিচ, করলা ও ডাঁটাসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করা হচ্ছে। কোনো কোনো এলাকার মাঠে আগাম চাষ করা সবজি এরইমধ্যে বড় হয়ে উঠেছে।
.png)
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রকোনা গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি দুই বিঘা জমিতে শসা, লাউ, করলা ও ডাঁটাসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করেছেন। এরই মধ্যে এসব জমি থেকে ফলন পাওয়া শুরু হয়েছে।
উল্লাপাড়া উপজেলার নাগরৌহা গ্রামের কৃষক সাইদুল ইসলাম বলেন, তিনি উন্নত জাতের বীজ কিনে নিজেই বীজতলা তৈরি করেছেন। এখন সেই বীজতলার চারা জমিতে রোপণ করছেন। প্রথম দফায় আট শতক জমিতে ফুলকপির চারা লাগাচ্ছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো সমস্যা না হলে দুই মাস পর ফুলকপি বাজারে বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।
কৃষক মেহের আলী এবার প্রায় দুই বিঘা জমিতে ফুলকপির আবাদ করছেন। এর মধ্যে এক বিঘা জমিতে চারা রোপণ করছেন। তিনি বলেন, বগুড়া থেকে উন্নত জাতের ১০ গ্রাম ফুলকপির বীজ ১ হাজার টাকায় কিনেছেন। বীজতলা তৈরি করতে সব মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এক মাস বয়সী চারা এখন জমিতে রোপণ করছেন তিনি।
উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমি বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৭০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ১৪৫ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। এ জন্য প্রান্তিক কৃষকদের বিনা মূল্যে সবজি বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। উল্লাপাড়ায় আগাম চাষ করা সবজি ইতিমধ্যে বাজারে উঠেছে। এসব সবজি বিক্রি করে কৃষকেরা ভালো দাম পাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম মনজুরে মওলা বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় ২ হাজার ৭২৫ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে কৃষকদের মধ্যে বিনা মূল্যে সবজি বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকেরা প্রতিবছরের মতো এবারও সবজি বিক্রি করে লাভবান হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এতে জেলার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।