নিহত রিমা মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ি গ্রামের মো. রশিদুজ্জামান মণ্ডল ও সাহিদা বেগমের মেয়ে। তিনি সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের ইংরেজি বিভাগের স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে রিমার কক্ষের দরজা বন্ধ ছিল। একপর্যায়ে কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে প্রতিবেশীরা বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় রিমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
.png)
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রিমার আগে একটি বিয়ে হয়েছিল। সেই সংসারে তার একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে পারিবারিক কারণে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে এবং সন্তানটি বর্তমানে প্রথম স্বামীর কাছে রয়েছে।
স্বজনদের দাবি, ২০২৪ সালে মাদারগঞ্জ উপজেলার চাঁদপুর এলাকার জেবু তালুকদারের ছেলে শুভর সঙ্গে গোপনে বিয়ে করেন রিমা। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শুভর পরিবারের সদস্যরা ওই বিয়ে মেনে নেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে শুভকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়া হলেও রিমার সঙ্গে তার যোগাযোগ ও একসঙ্গে বসবাস অব্যাহত ছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।
পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, একপর্যায়ে শুভকে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়। তবে ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতায় তিনি দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পরও রিমার সঙ্গে তার সম্পর্ক বজায় ছিল। গত সপ্তাহেও তারা একসঙ্গে ছিলেন।
কয়েকদিন ধরে তারা রিমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। পরে শুক্রবার রাতে তার মৃত্যুর খবর পান।
তাদের অভিযোগ, সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করতে শুভর পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়ে থাকতে পারে। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে রিমা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে তাদের ধারণা। তবে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সানজিদা আফরিন নামে তার এক সহপাঠী বলেন, রিমার একটি ছেলে সন্তান আছে। ওই সন্তান তার প্রথম স্বামীর কাছে থাকে।
এদিকে বাড়ির মালিক মোবারক হোসেনের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, চার মাস আগে রিমা বাসা ভাড়া নিয়েছিল। আশেক মাহমুদ কলেজে ইংরেজিতে পড়তো, তার স্বামীর নাম শুভ।
সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ মনোয়ার হুসেন মুরাদ বলেন, খবরটি শুনে গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছি। রিমা আমাদের বিভাগের একজন শিক্ষার্থী ছিল। তার এমন মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। এখনো পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন হোক এবং সত্য সামনে আসুক, সেটিই প্রত্যাশা।
জামালপুর সদর থানার ওসি (তদন্ত) মো. নাজমুল জান্নাত শাহ বলেন, ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে যায়। পরে বদ্ধ কক্ষের দরজা ভেঙে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।