ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
ঈশ্বরদী বিএনপিতে চরম কোন্দল

সপ্তাহের ব্যবধানে ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির পাল্টা কমিটি

পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:৫৮, ৩১ আগস্ট ২০২৬
সপ্তাহের ব্যবধানে ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির পাল্টা কমিটি
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পাবনার ঈশ্বরদীতে উপজেলা ও পৌর বিএনপিকে কেন্দ্র করে দলীয় কোন্দল চরম রুপ নিয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে সেখানে পাল্টা আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। একই দলের উপজেলা ও পৌর শাখায় পরপর দুই ধরনের কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ঈশ্বরদীর বিএনপির রাজনীতিতে বিভক্তি আরও প্রকাশ্যে এসেছে।   এতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী শহরের রেলগেট কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু তার অনুসারীদের নিয়ে এই ঘোষণা দেন। এতে ২৪ সদস্যের উপজেলা এবং ২২ সদস্যের পৌর কমিটি গঠন করা হয়।

গত ২২ আগস্ট জেলা বিএনপির আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব অনুসারী নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে দুই সদস্যের (আংশিক) ঈশ্বরদী উপজেলা ও দুই সদস্যের (আংশিক) ঈশ্বরদী পৌর কমিটি গঠন করা হয়।   সেই কমিটি ঘোষণার কয়েকদিনের মাথায় পিন্টু বলয়ের এই পাল্টা পদক্ষেপে ঈশ্বরদী বিএনপিতে এখন মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে।

Advertisement

কমিটির নাম ঘোষণার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জাকারিয়া পিন্টু   বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আন্দোলন সংগ্রামে যারা অংশ নিয়েছিলেন, জেল-জুলুম, নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করেছেন, সেই সকল ত্যাগী, পরিশ্রমি এবং উপজেলা ও পৌর এলাকার তৃনমূল বিএনপির নেতা-কর্মীর চাহিদা অনুযায়ী এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ কমিটি আগামী এক মাসের মধ্যে পৌর ও ইউনিয়ন কমিটি তৈরি করে তিনমাসের মধ্যে কাউন্সিল করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করবে।

২৪ সদস্যের উপজেলা কমিটির আহবায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম ও সদস্য সচিব করা হয়েছে সাহাবুদ্দিন সেন্টু সরদারকে। কমিটিতে ৫ জনকে যুগ্ম আহবায়ক করা হয়েছে। এরা হলেন-আমিনুল ইসলাম কেনেডি, আক্কাস আলী খান, জাহাঙ্গীর হোসেন খান, আবু বক্কার সিদ্দিক তুফান ও মজিবর রহমান।

২২ সদস্যের পৌর কমিটির আহবায়ক ইসলাম হোসেন জুয়েল ও সদস্য সচিব করা হয়েছে আনোয়ার হোসেন জনিকে। এ কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ৭ জন। এরা হলেন-শ্রী বৃষ্টু কুমার সরকার, আমিনুল ইসলাম স্বপন, নান্নু রহমান, ইলিয়াস হোসেন এলবাস, আবু বক্কর সিদ্দিক বেল্ট, আব্দুর রাজ্জাক ও খন্দকার তৌফিক আলম সোহেল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক কর্মী বলেন, আমরা তো শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপি করি। কোনো কিছু পাওয়ার আশায় দল করি না। কিন্তু দলের মধ্যে কী যে শুরু হয়েছে, তা বুঝতে পারছি না। কয়েক দিন আগেই একটি কমিটি দেওয়া হলো, আবার এখন সেই কমিটির পাশাপাশি আরেকটি কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।

আরেক বিএনপি কর্মী অভিযোগ করে বলেন, ঈশ্বরদীর যেসব বিএনপি নেতা এখন এসব করছেন, তারা প্রকৃত অর্থে বিএনপির আদর্শের রাজনীতি করেন না। তারা স্বার্থবাদী ও গ্রুপিংয়ের রাজনীতি করেন। নিজেদের ভাই-গ্রুপ তৈরি করে রাজনীতি করেন। তাদের মধ্যে বিএনপির আদর্শের চর্চা নেই।

সদ্য পাল্টা কমিটি ঘোষণা করা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু বলেন, তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে না—এমন আশঙ্কা থেকেই প্রতিবাদস্বরূপ এই কমিটি ঘোষণা করেছি। ঈশ্বরদীতে ৭-৮ বছর ধরে কোনো কমিটি নেই। সম্প্রতি যে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, তা তৃণমূলের সঙ্গে আলোচনা না করেই করা হয়েছে। আমরা ওই অগণতান্ত্রিক কমিটির প্রতিবাদ জানিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্য থেকে নেতৃত্ব বাছাই করেছি।

এ বিষয়ে পাবনা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মাসুদ খন্দকার বলেন, আমরা প্রায় ১৫ দিন আগে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে কমিটি ঘোষণা করেছি। আমাদের ঘোষিত কমিটির একটি সাংগঠনিক মূল্য আছে। আজকে যে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, সেটির কোনো সাংগঠনিক বৈধতা বা মূল্য নেই—এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। যে কেউ যখন-তখন একটি কমিটি ঘোষণা করলেই কি সেটি বৈধ হয়ে যায়?
তিনি আরও বলেন, দলের গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক নিয়ম মেনেই কমিটি ঘোষণা করতে হয়। সুতরাং এভাবে কেউ কমিটি ঘোষণা করলেই সেটিকে বিএনপির বৈধ কমিটি বলা যাবে না।

উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট জেলা বিএনপির আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব অনুসারীদের  সমন্বয়ে দুই সদস্যের (আংশিক) ঈশ্বরদী উপজেলা ও দুই সদস্যের (আংশিক) ঈশ্বরদী পৌর কমিটি গঠন করা হয়। উপজেলা কমিটির আহবায়ক জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদার ও সদস্য সচিব করা হয় শরিফুল ইসলাম তুহিনকে। মাহবুবুর রহমান পলাশ পৌর কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব করা হয় ইমরুল কায়েস সুমনকে।

উল্লেখ্য, এ কমিটির ঘোষণার পর জাকারিয়া পিন্টু অনুসারী বিএনপির নেতা-কর্মীরা কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করে। সকল ত্যাগী নেতা-কর্মীর সমন্বয়ে কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। কিন্তু কমিটি বাতিল না করায় এ পাল্টা কমিটি ঘোষণা করা হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এম ইউ
ট্যাগ: পাবনা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!