প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে। ফলে একদিকে তাঁদের শ্রেণিকক্ষে সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে, অন্যদিকে দাপ্তরিক কাজের চাপও বাড়ছে। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি উপবৃত্তি, হিসাব-নিকাশ, বিভিন্ন সভা ও দাপ্তরিক প্রয়োজনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের উপজেলা শিক্ষা অফিসে যেতে হয়। ফলে তাঁদের অনুপস্থিতিতে অনেক সময় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হয়।
.png)
অন্যদিকে, ৬২টি বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক নেতৃত্বের সংকট তৈরি হয়েছে। শিক্ষক ও অভিভাবকেরা বলছেন, বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং শিক্ষার মান ধরে রাখতে দ্রুত শূন্য পদে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।
তদারকিতেও জনবল সংকট
বিদ্যালয় পর্যায়ের পাশাপাশি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের মাঠপর্যায়ের তদারকিতেও জনবল সংকট রয়েছে। নান্দাইলে আটজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন ছয়জন। দুটি পদ শূন্য থাকায় কর্মরত কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে সব বিদ্যালয়ে নিয়মিত পরিদর্শন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে শিক্ষকদের পাঠদান পর্যবেক্ষণ, বিদ্যালয়ের পরিবেশ মূল্যায়ন এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমের তদারকিও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় করা সম্ভব হচ্ছে না।
৭২ বিদ্যালয়ে নেই নৈশপ্রহরী-কাম-দপ্তরি
শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থাতেও রয়েছে ঘাটতি। উপজেলার ১৭৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭২টিতে নৈশপ্রহরী-কাম-দপ্তরি নেই।
নৈশপ্রহরী না থাকায় রাতের বেলায় বিদ্যালয়ের ভবন ও সরকারি সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিরাপত্তার ঘাটতির সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, সাউন্ড সিস্টেম, বৈদ্যুতিক ফ্যানসহ সরকারি সরঞ্জাম চুরির ঘটনাও ঘটছে।
শিক্ষক ও অভিভাবকদের ভাষ্য, বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক ও সহায়ক জনবল না থাকলে প্রাথমিক শিক্ষার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। বিশেষ করে প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রশাসনিক কাজের চাপ ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ওপর পড়ে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষের পাঠদানে পড়ে।
তাঁদের দাবি, দ্রুত ৬২টি শূন্য প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়ার পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের দায়িত্বের চাপ কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে নৈশপ্রহরী-কাম-দপ্তরি এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসের শূন্য পদগুলোও পূরণ করা জরুরি।
নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজিলাতুন্নেছা বলেন, শূন্য পদগুলোর তালিকা নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে। নিয়োগ ও পদোন্নতির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে জনবল সংকট অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করছেন তিনি।