রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) নাটোরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শারমিন আখতার এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আবু বক্কর সিদ্দিক সিংড়া উপজেলার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সোয়া ৮টার দিকে সাত বছরের ওই শিশু স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। সে বিদ্যালয়টির তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
.png)
পথে একটি মাদ্রাসার পাশের গলিতে পৌঁছালে আবু বক্কর সিদ্দিক শিশুটির মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক মাদ্রাসার একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। পরে কান্নাকাটি করতে করতে শিশুটি বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি জানায়।
ঘটনার দিনই শিশুটির বাবা বাদী হয়ে সিংড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
মামলাটির তদন্ত করেন সিংড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহিদুল ইসলাম। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তিনি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
বিচার চলাকালে আদালত ভুক্তভোগী শিশু, চিকিৎসক, তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। পাশাপাশি উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
রায়ে বিচারক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার অর্থ আদায় করে তা ভুক্তভোগী শিশুকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অনাদায়ে আসামিকে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
এ ছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারা অনুযায়ী, আসামি মামলার বিচারাধীন অবস্থায় যে সময় হাজতে ছিলেন, তা তার মূল সাজা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত আবু বক্কর সিদ্দিককে সাজা পরোয়ানামূলে নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।