ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সাঁকোর বাঁশ ভেঙে পানিতে পড়ে প্রাণ গেল মাদরাসাছাত্রের

নেত্রকোণা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:০৮, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সাঁকোর বাঁশ ভেঙে পানিতে পড়ে প্রাণ গেল মাদরাসাছাত্রের
এআই দিয়ে তৈরি করা ছবি।

মাদরাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে বাঁশের সাঁকো পার হচ্ছিল সাত বছরের আরাফ। পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন মা। হঠাৎ সাঁকোর একটি বাঁশ ভেঙে পানিতে পড়ে যায় শিশুটি। মায়ের চোখের সামনেই পানিতে তলিয়ে যায় সে। ছেলেকে উদ্ধারে স্বজন ও স্থানীয়রা ছুটে এলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি আরাফকে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার সদর ইউনিয়নের কয়রাখালী গ্রামে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আরাফ ওই গ্রামের হৃদয় মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় একটি মাদরাসায় পড়াশোনা করত।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে মাদরাসা থেকে বাড়ি ফিরছিল আরাফ। বাড়িতে ফেরার পথে গ্রামের একটি বাঁশের সাঁকো পার হচ্ছিল সে। এ সময় শিশুটির মা কাছেই দাঁড়িয়ে ছেলের সাঁকো পার হওয়া দেখছিলেন।

Advertisement

একপর্যায়ে মা বাড়ির দিকে চলে যান। এর কিছুক্ষণ পর সাঁকোর একটি বাঁশ ভেঙে গেলে ভারসাম্য হারিয়ে পানিতে পড়ে যায় আরাফ। পানিতে পড়ার শব্দ শুনে তাঁর মা দ্রুত বেরিয়ে এসে দেখতে পান, ছেলে পানিতে ডুবে গেছে।

এরপর তাঁর চিৎকারে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ছুটে আসেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পানিতে তল্লাশি চালিয়ে আরাফকে উদ্ধার করা হয়। দ্রুত তাকে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আরাফের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সন্তানকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্বজনেরা। স্থানীয়দের মধ্যেও এ ঘটনায় নেমে এসেছে শোক।

কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। শিশুটি সাঁকো পার হওয়ার সময় তার মা কাছেই ছিলেন। সাঁকোর বাঁশ ভেঙে শিশুটি পানিতে পড়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

তিনি জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামাঞ্চলের অনেক স্থানে এখনো ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে শিশু, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে চলাচল করতে হয়। এসব সাঁকোর অনেকগুলো দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যায়। আরাফের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর কয়রাখালী গ্রামের ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোটি দ্রুত সংস্কার বা সেখানে স্থায়ী পারাপারের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!