সাবেক ইউপি সদস্য জাকারিয়া হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রেজিস্ট্রি ডাকযোগে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগটি পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও ভূমিমন্ত্রী বরাবর পৃথক দুটি অভিযোগ পাঠানো হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ২০২৩ সালে জনৈক আব্দুল হাই, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রাসেলসহ কয়েকজন মিলে সলঙ্গার কুতুবের চর এলাকায় ওই মৎস্য আড়তটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আড়তকে কেন্দ্র করে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ রয়েছে।
.png)
অভিযোগকারীদের দাবি, আড়তটিতে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি টাকার লেনদেন হলেও এটি সরকারি পেরিফেরিভুক্ত না হওয়ায় সরকার কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না। পাশাপাশি আড়তদার ও যানবাহন থেকে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, জনবহুল এলাকায় মৎস্য আড়তটি স্থাপনের কারণে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এর প্রভাবে ঐতিহ্যবাহী সলঙ্গা হাটও বিলুপ্তির পথে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
আড়তটি উচ্ছেদের দাবিতে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব ও জেলা প্রশাসক বরাবর একাধিক অভিযোগ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। একই কারণে সলঙ্গা হাটের ইজারাদারও জেলা প্রশাসকের কাছে পৃথক অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, ঐতিহ্যবাহী হাটটি ১ কোটি ২৭ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েও কুতুবের চর এলাকার ওই আড়তের কারণে তিনি অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
এ ছাড়া আড়ত পরিচালনাকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আদালতে চাঁদাবাজির মামলাও দায়ের হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে আড়তটি অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে এমন অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আগে জানা ছিল না, সাংবাদিকের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, আড়তটি উচ্ছেদের পরিবর্তে পেরিফেরিভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত এবং নকশাও তৈরি করে রাখা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে মামলা চলমান থাকায় পেরিফেরি অনুমোদনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, ওই আড়তের অধিকাংশ জমিই ব্যক্তিমালিকানাধীন। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ জমি পেরিফেরিভুক্ত করার জন্য সরকারকে লিখে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পাশের আরেকটি পেরিফেরিভুক্ত আড়তের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, আমরা বসে নেই। বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। গত সপ্তাহে একটি মিটিং করে রিটটি কীভাবে খারিজ করা যায়, সে বিষয়ে আলাদাভাবে একজন আইনজীবীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ ও দাবি জানানো হলেও কার্যকর সমাধান হয়নি। তারা দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে মৎস্য আড়তটির বৈধতা নির্ধারণ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।