চরফ্যাশনে শিক্ষা কর্মকর্তার বদলি নিয়ে বিতর্ক, নথি তলব
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূতভাবে শিক্ষকদের বদলির আদেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বদলি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য তলব করেছে ভোলা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। নথি যাচাইয়ের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট বদলি আদেশের বৈধতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শনিবার ভোলা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জরুরি ভিত্তিতে বদলি-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও নথি চাওয়া হয়। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামের স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে আগামী ৫ অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে বিশেষ বাহকের মাধ্যমে এসব নথি জেলা অফিসে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
.png)
চিঠিতে প্রতিস্থাপন সাপেক্ষে বদলির আদেশ পাওয়া শিক্ষকদের সংখ্যা ও সংশ্লিষ্ট আদেশ, বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদানকারী এবং এখনো যোগদান করতে না পারা শিক্ষকদের পৃথক তালিকা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অন্তঃউপজেলা বদলি-সংক্রান্ত কমিটির কার্যবিবরণী, বদলির আদেশ এবং উপজেলার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্য পদের তালিকাও চাওয়া হয়েছে। শূন্য পদের তালিকা সঠিক রয়েছে মর্মে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার প্রত্যয়নসহ হার্ডকপি ও সফটকপি পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫’ এর নবযোগদানকৃত শিক্ষকদের পদায়নের লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ের কমিটির ৩ অক্টোবরের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব তথ্য চাওয়া হয়েছে। চিঠির অনুলিপি ভোলা জেলা প্রশাসক ও বরিশাল বিভাগীয় উপপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে রাতের আঁধারে নিয়মনীতি, প্রজ্ঞাপন ও নির্ধারিত শর্ত উপেক্ষা করে অনিয়মের মাধ্যমে শিক্ষকদের বদলির আদেশ তৈরি করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের চিঠিতে কোনো নির্দিষ্ট বদলির আদেশকে অবৈধ বা নিয়মবহির্ভূত বলে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে তলব করা নথি যাচাইয়ের পরই বদলি-প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হতে পারে।