ঢাকা,  সোমবার   ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

আগাম টমেটো চাষে শেখ স্বপনের সাফল্য

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:২০, ৫ অক্টোবর ২০২৬
আগাম টমেটো চাষে শেখ স্বপনের সাফল্য
আখাউড়ায় টমেটো চাষে ব‍্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আর নতুন নতুন উদ্ভাবনে বদলে যাচ্ছে কৃষি ব্যবস্থা। কৃষকরা বছরজুড়ে নানা প্রজাতির সবজি আবাদ করে উৎপাদন করছে দ্বিগুণ ফসল। এতে কৃষকরা বেশ লাভবান হচ্ছেন।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় প্রযুক্তির কল্যাণে বাণিজ্যিকভাবে হাইব্রিড জাতের আগাম টমেটো চাষ করে এক নবদিগন্তের সূচনা করেছে শেখ স্বপন মিয়া নামে এক কৃষক। তিনি  চার বিঘা জমিতে কোনো প্রকার রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করে শুধু জৈব সার প্রয়োগে এ চাষ করেন। সঠিকভাবে পরিচর্যায় জমিতে টমেটোর ফলন ভালো হয়েছে। ইতোমধ্যে বিক্রি শুরু হয়েছে। পাইকারিতে প্রতি কেজি টমেটো ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি করছেন। জমিতে টমেটোর যে ফলন হয়েছে শেষ পযর্ন্ত বাজার দর ভালো থাকলে ৮ লাখ টাকার ওপর টমেটো বিক্রি হবে কৃষক  আশা করছেন । কৃষক শেখ স্বপন মিয়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের রানীখার গ্রামের বাসিন্দা।

সরেজমিনে রানীখার গ্রামে দেখা গেছে, চারদিকে সবুজে সমারোহ। পাশাপাশি চারদিকে নেট জাল দিয়ে বেড়া দেওয়া আছে। ভিতরে প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলে আছে ছোটবড় টমেটো। যে দিকে দৃষ্টি পড়ে জমিতে দেখা যায় কাঁচা-পাকা টমেটোয় ছেয়ে আছে পুরো মাঠ। টমেটো নিয়ে এক প্রকার ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক শেখ স্বপন।

কৃষক শেখ স্বপন মিয়া জানায়, দীর্ঘ বছর ধরে নানা প্রকারের সবজি চাষ করছি। কিন্তু লাভবান হতাম না। কৃষি অফিসের সহায়তায় ও পরামর্শে কোন সময় কোন সবজি করলে ফলন ও দর ভালো পাওয়া যায় সেভাবে করছি। তাই লাভবান হচ্ছি। এ মৌসুমে ৪ বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে আগাম টমেটে চাষ করি। জমি প্রস্তুত, চারা কেনা, নেট জাল ক্রয়, শ্রমিকসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে এ চাষে ২ লাখ ২০ হাজার টাকার উপর খরচ হয়। চারা লাগানোর ৬০ দিনের মাথায় গাছে ফলন আসতে শুরু করে। গত এক সপ্তাহ ধরে টমেটো বিক্রি করছি। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে পাইকারিতে প্রতিকেজি টমেটো ৭০-৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকুল ও বাজার দর ঠিক থাকলে সব মিলিয়ে ৮ লাখ টাকার উপর  টমেটো বিক্রি হবে বলে আশা করছি। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে ও যাবতীয় খরচ বাদে প্রায় ৫ লাখ টাকা আয় হবে বলে জানায়।

স্থানীয় বাসিন্দা মোবারক হোসেন বলেন, শেখ স্বপন একজন কর্মঠ মানুষ। বছরের বেশিভাগ সময় সে নানা প্রজাতির সবজি চাষ করছেন। এবার আগাম টমেটো চাষ করে এলাকায় বাজিমাত করেন। আমরা প্রায় সময় এখান থেকে টাটকা টমেটো নিয়ে খাচ্ছি।

মালু  মিয়া বলেন, আসলে আমাদের এলাকায় আগে কেউ বাণিজ্যিকভাবে সবজি চাষ করতো না। কৃষকরা ধানসহ অন্যান্য ফসল করতো। গত কয়েক বছর ধরে বানিজ্যিকভাবে নানা প্রকারের সবজি চাষ করছে কৃষকরা। এরমধ্যে শেখ স্বপন একজন। সে বছরজুড়ে নানা জাতের সবজি চাষ ভালো টাকা আয় করছে।

আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, এ উপজেলায় বছর জুড়ে নানা প্রকার সবজি আবাদ করছে কৃষকরা। সরকারি সহায়তা হিসাবে কৃষকদেরকে সার, বীজসহ অন্যান্য উপকরণ দেওয়া হয়। ফলন বৃদ্ধিতে সব সময় স্থানীয় কৃষকদেরকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করে অনেকেই লাভবান হচ্ছেন। এরমধ্যে কৃষক শেখ স্বপন অন্যতম। তিনি মৌসুম অনুযায়ী নানা প্রকার সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন।

Advertisement
ডেইলি-বাংলাদেশ/আখাউড়া/জেডআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!