ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

গাজীপুর প্রেসক্লাবের নির্বাচন স্থগিত

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:৩৬, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
গাজীপুর প্রেসক্লাবের নির্বাচন স্থগিত
গাজীপুর প্রেসক্লাব

গাজীপুর প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন ভোট গ্রহণ শুরুর মাত্র আধা ঘণ্টা আগে স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে এ সিদ্ধান্ত জানায় নির্বাচন কমিশন। তত্ত্বাবধায়ক মণ্ডলীর পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠিতে ‘অনিবার্য কারণের’ কথা বলা হলেও সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। এ ছাড়া পাঁচ সদস্যের মণ্ডলীর মধ্যে মাত্র দুজনের স্বাক্ষরযুক্ত চিঠির ভিত্তিতে নির্বাচন স্থগিত করায় সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন প্রার্থী ও সাংবাদিক।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে তত্ত্বাবধায়ক মণ্ডলীর পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। এতে বৃহস্পতিবারের নির্ধারিত নির্বাচন স্থগিতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। পরবর্তী সময়ে নতুন করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে স্বাক্ষর করেন তত্ত্বাবধায়ক মণ্ডলীর আহ্বায়ক মো. এমরান খান ও সদস্য দেলোয়ার হোসেন। তবে মণ্ডলীর অন্য তিন সদস্য ফারদিন ফেরদৌস, শাহ সামসুল হক রিপন ও মাজহারুল ইসলাম মাসুমের স্বাক্ষর ছিল না। এ কারণে চিঠির গ্রহণযোগ্যতা এবং এর ভিত্তিতে নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত কতটা যথাযথ, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন সাংবাদিক ও প্রার্থী।

নির্বাচনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে থাকার পরও ভোট গ্রহণ শুরুর ঠিক আগে এমন সিদ্ধান্ত আসায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাংবাদিকেরা।
দৈনিক দেশ রূপান্তরের গাজীপুর প্রতিনিধি রেজাউল করিম তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ভোট গ্রহণ শুরুর ৩০ মিনিট আগে নির্বাচন বন্ধ হওয়ায় গত ২০ দিনের প্রস্তুতি ও পরিশ্রম বৃথা হয়ে গেছে। দৈনিক জনকণ্ঠের সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান টিটুও শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন আয়োজনের যে প্রস্তুতি ছিল, এ সিদ্ধান্তে তা ব্যাহত হয়েছে।
যমুনা টেলিভিশনের গাজীপুর প্রতিনিধি মো. আল-আমিন বলেন, তত্ত্বাবধায়ক মণ্ডলীর পাঁচ সদস্যের মধ্যে তিনজনের স্বাক্ষর ছাড়া পাঠানো চিঠির ভিত্তিতে নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত কতটা বিধিসম্মত, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি সিদ্ধান্তের সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশের দাবি জানান।
নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ও দৈনিক আগামীর সময়ের গাজীপুর প্রতিনিধি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, তাঁরা এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। বুধবার রাত প্রায় ১২টার দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে নির্বাচন স্থগিতের চিঠি পাঠানো হয়। এতে তত্ত্বাবধায়ক মণ্ডলীর পাঁচ সদস্যের মধ্যে মাত্র দুজনের স্বাক্ষর ছিল। চিঠিতে সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করে শুধু ‘অনিবার্য কারণের’ কথা বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, সভাপতি পদপ্রার্থী ও চ্যানেল ওয়ানের গাজীপুর প্রতিনিধি মো. ইকবাল আহমেদ সরকার নির্বাচন স্থগিতের পেছনে একটি পক্ষের ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন পর উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিল। প্রার্থীরাও ভোটে অংশ নিতে প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু পরাজয়ের আশঙ্কা থেকে একটি পক্ষ ভোট গ্রহণ শুরুর আধা ঘণ্টা আগে নির্বাচন স্থগিত করেছে বলে তিনি মনে করেন।
ইকবাল আহমেদ সরকার বলেন, পাঁচ সদস্যের তত্ত্বাবধায়ক মণ্ডলীর মধ্যে মাত্র দুজনের স্বাক্ষরযুক্ত চিঠির ভিত্তিতে নির্বাচন বন্ধের সিদ্ধান্ত দুঃখজনক। এ সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রেসক্লাবের সাধারণ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
গাজীপুর প্রেসক্লাব নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাসুদ রানা মুঠোফোনে নির্বাচন স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তত্ত্বাবধায়ক মণ্ডলীর আহ্বায়ক ও টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক মো. এমরান খান বলেন, অনিবার্য কারণবশত আপাতত নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
তবে নির্বাচন স্থগিতের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং নতুন নির্বাচনের তারিখ এখনো জানানো হয়নি। এতে গাজীপুর প্রেসক্লাবের নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/গাজীপুর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!