সিরাজুম মুনিরা। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। ব্যস্ততার কারণে রমজান মাসে কেনাকাটায় তার আস্থা অনলাইন শপিং। এমনকি সময় স্বল্পতা ও ঝামেলা এড়াতে অন্যসব পণ্যের মতো ইফতারিও অর্ডার করেন অনলাইনে।
তিনি বলেন, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত অফিস করতে হয়। বাসা থেকে বের হতে হয় ঘণ্টাখানেক আগে, ফিরতে আরো ঘণ্টাখানেক সময় লাগে। এরপর আর ইফতারি তৈরি করার সময় থাকে না। আর বাসায় বয়স্ক শ্বশুর-শাশুড়ি ও ৪ বছরের একমাত্র ছেলে আছে। আর কেউ নেই যে ইফতারি তৈরি করে রাখবে। তাই আমাকে অন্যান্য বাজারের মতো ইফতারেও বিভিন্ন ফেসবুক পেইজ এবং ওয়েবসাইটের প্রতি আস্থা রাখতে হয়।
.png)

মুনিরা বলেন, বাসায় ফিরে পছন্দের খাবার অনলাইনে অর্ডার করলে আধা ঘণ্টার মধ্যে চলে আসে। আমাকে কষ্ট করে আর তৈরি করতে হয় না। এর চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে!
শুধু সিরাজুম মুনিরাই নন, অনেক কর্মজীবী নারী-পুরুষ রমজানে নির্ভর করছেন অনলাইন ইফতারি পণ্যের ওপর।
ফেসবুকে দেখা যায়, বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁর লোভনীয় ও মুখরোচক খাবারের বিজ্ঞাপন। অফলাইন ও অনলাইনে সমানতালে চলছে বিক্রি। বড় বড় হোটেল-রেস্তোরাঁর পাশাপাশি মধ্যম ও ছোট হোটেল-রেস্তোরাঁও সরব নেট দুনিয়ায়। রেস্তোরাঁর নামে রয়েছে নিজস্ব ফেসবুক পেজ ও গ্রুপ। দামি ক্যামেরা দিয়ে খাবারের ছবি তুলে প্রতিনিয়ত সেখানে আপলোড করা হয়। এছাড়া ক্রেতা আকর্ষণে খাবারের সঙ্গে মূল্যছাড়সহ দেওয়া হচ্ছে আকর্ষণীয় সব অফার।

রাজধানীর কাফরুলের সানমুন হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে গিয়ে দেখা গেছে, রেস্টুরেন্টের সামনে সাজিয়ে রাখা হয়েছে নানরুটি, হালিম, কাবাব, গ্রিল, জিলাপির পাশাপাশি বাহারি সব ইফতার সামগ্রী। দুপুরের পর থেকেই লোকজন ইফতারি কেনার জন্য ভিড় করছেন। এছাড়া বিকেলের দিকে অনলাইনে অর্ডার করা খাবার নিতে আসতে থাকেন হাংরিনাকি, ফুটপান্ডা, পাঠাও ফুডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের রাইডাররা।
মোহাম্মদ জাকির নামে এক রাইডার বলেন, রমজানে আমাদের ইফতারির অর্ডার বেশি থাকে। একই সঙ্গে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের অনেক অর্ডার থাকায় সময়মতো ডেলিভারি দিতে হিমশিম খেতে হয়। এমনকি নিজেরাও ঠিকমতো ইফতার করতে পারি না।
ব্যস্ত হাতে ক্রেতা সামলাচ্ছেন সানমুন হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের কর্মী আব্দুল্লাহ। কাজের ফাঁকে ফাঁকেই বললেন, করোনার আগেও রমজানে ইফতারি কিনতে প্রচুর কাস্টমার আসতো। কিন্তু এখন অনলাইনের যুগ। মানুষ বাসায় বসেই ফুডপান্ডা, হাংরিনাকিসহ বিভিন্ন অ্যাপে অর্ডার করে। আমরা খাবার সরবরাহ করি রাইডারদের মাধ্যমে। অনলাইনে গড়ে ৪-৫ হাজার টাকার ইফতারি বিক্রি হয়।

হোটেল-রেস্তোরাঁর পাশাপাশি হোম-মেড ইফতারির চাহিদাও দিনদিন বাড়ছে। অনেকে মনে করেন, হোটেল-রেস্তোরাঁয় খাবারের মান ভালো হয় না। হোমমেড খাবারেই তাদের আস্থা।
ফুডপান্ডা অ্যাপে ‘খুশবুস কিচেন’ নামে একটি হোম মেড খাবারের পেজে ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে ইফতারির নানা আইটেমের ছবি দেওয়া রয়েছে। ‘খুশবুস কিচেন’-এর নিয়মিত ক্রেতা তৌহিদ বলেন, আগে বিভিন্ন বড় বড় রেস্টুরেন্টে খাবার অর্ডার করতাম। কিন্তু তারা নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করায় বাদ দিয়েছি। এখন হোম-মেড খাবারই বেশি অর্ডার করি।
ধানমন্ডির অভিজাত রেস্টুরেন্ট ওল্ড টেরেসের ফেসবুক পেজে ঢুকে দেখা গেছে, ইফতারের দৈনন্দিন বাহারি খাবারের পাশাপাশি বিভিন্ন সেট মেনু, প্ল্যাটার সাজিয়ে সেগুলোর প্রচারণা চালাচ্ছে তারা। এছাড়া রাতের খাবার ও সেহরির ব্যবস্থাও রেখেছে ওল্ড টেরেস রেস্টুরেন্ট।
একইভাবে সেহরি-ইফতারের বাহারি খাবার বিক্রিতে অনলাইনে ক্রেতা আকর্ষণের চেষ্টা করছে টেস্টি ট্রিট, ফুডপান্ডা, পাঁচতারকা হোটেল রেনেসাঁ, সোনারগাঁও, ইন্টারকন্টিনেন্টালসহ বিভিন্ন হোটেল ও রেস্টুরেন্ট।