ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ অর্থনীতি ]

টানা ১৪৪ ঘণ্টা সেবা থেকে বঞ্চিত ৩০ ব্যাংকের গ্রাহক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:২৭, ৬ অক্টোবর ২০২৬
টানা ১৪৪ ঘণ্টা সেবা থেকে বঞ্চিত ৩০ ব্যাংকের গ্রাহক
বাংলাদেশ ব্যাংক। ফাইল ছবি

প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও নিরাপত্তা বাড়াতে কিউ-ক্যাশ (Q-Cash) নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের কারণে দেশের ৩০টি ব্যাংকের কার্ড, এটিএম ও ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা ৬ দিন সাময়িকভাবে বন্ধ আছে। যেসব সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে:

* এটিএম (ATM) বুথ থেকে নগদ টাকা উত্তোলন

* পিওএস (POS) মেশিনের মাধ্যমে দোকানে কার্ড দিয়ে পেমেন্ট

* ই-কমার্স বা অনলাইনে কেনাকাটা ও বিল পরিশোধ

* কিউআর (QR) কোড ভিত্তিক লেনদেন

* এনপিএসবি (NPSB) বা আন্তঃব্যাংক ডিজিটাল ফান্ড ট্রান্সফার

সম্প্রতি ব্যাংক এশিয়া, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, রুপালি ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, স্যোশাল ইসলামী ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংক তাদের সিস্টেম রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কারণে গ্রাহকদের জন্য এসব সেবা সাময়িক বন্ধ থাকার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে।

ব্যাংকগুলোর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত ব্যাংকটির কয়েকটি কার্ড ও লেনদেন সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। এই সময়ে ব্যাংকগুলোর এটিএম, কার্ড, পিওএস, এনপিএসবি, ই-কমার্স ও কিউআর সেবা ব্যবহার করা যাবে না। ফলে গ্রাহকেরা এটিএম থেকে টাকা তোলা, কার্ড দিয়ে কেনাকাটা অনলাইন ব্যাংকিং এবং কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেন করতে পারবেন না।

এ ছাড়া এনপিএসবি ও ই-কমার্সের মাধ্যমে লেনদেনও বন্ধ থাকবে। সিস্টেম মাইগ্রেশনের কাজ শেষ হওয়ার পর এসব সেবা আবার চালু হবে বলে জানিয়েছে ব্যাংকগুলো। 

সেবা বন্ধ থাকার কারণে গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে ব্যাংকগুলো। তবে গ্রাহকরা বলছেন ভিন্ন কথা, মুশলধার এতগুলো সেবা বন্ধ রাখার বিষয়ে কোন পূর্ববর্তী ঘোষণা ছাড়া হুট করে সেবা বন্ধ করে দেওয়া এটা অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, বেশিরভাগ ব্যাংকগুলো ৪ তারিখ রাত থেকে সেবা বন্ধ করে দিলেও তারা গ্রাহকদের ৫ তারিখ দুপুরের পরে এসএমএস এর মাধ্যমে সেবা বন্ধের বিষয়টি জানায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ আহমেদ খান জানিয়েছেন, ব্যাংকগুলো তাদের প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য স্বাধীনভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং কাকতালীয়ভাবে এই ১৯টি ব্যাংকের আপগ্রেডেশনের সময় একই ফ্রেমে পড়েছে। গ্রাহকদের ভোগান্তি এড়াতে ব্যাংকগুলোকে আগেই এসএমএস সতর্কবার্তা পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখানে তাদের গাফিলতি গ্রাহকদের দুর্ভোগ আরো বাড়িয়ে দিছে।

গ্রাহক দুর্ভোগ নিয়ে কয়েকটি ব্যাংকের সঙ্গে কথা বললেও তারা আসলে দুঃখ প্রকাশ ছাড়া কিছুই উত্তর দিতে পারেনি, তবে এই বিষয়ে এন আর বিসি ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট মো: রুহুল আমিন বলেন, আসলে এমন হুট করে একটা সিদ্বান্ত গ্রাহকদের জন্য চরম একটা দুর্ভোগ, গ্রাহকদের আগে কেন বিষয়টি জানানো হলো না, এ ব্যাপারে তিনি বলেন, আসলে অনেক ব্যাংকের গ্রাহকরা এই সমস্যায় পড়েছেন, যেহেতু গ্রাহক অনেক বেশি তাই মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলো গ্রাহকদের জানাতে দেরি করে ফেলছে, আমরা একদিন আগেই তাদের কাছে গ্রাহকদের জানানোর বিষয়টি অবহিত করি।

সিস্টেম মাইগ্রেশনের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরপরই এই সেবাগুলো আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। সাময়িক এই বিভ্রাট চলাকালীন যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে গ্রাহকদের সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখা-ভিত্তিক কাউন্টার সেবা বা হেল্পলাইনে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআর/একেকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!