ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

একাদশ শ্রেণিতে প্রথম দিনের ভর্তিতে সাড়া কম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩:৪৭, ১০ আগস্ট ২০২০
একাদশ শ্রেণিতে প্রথম দিনের ভর্তিতে সাড়া কম
ছবি: ইন্টারনেট

২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে প্রথম দিনের ভর্তিতে কম সাড়া পড়েছে। তবে প্রথম দিনে ঠিক কতো শিক্ষার্থী আবেদন করেছে সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেনি ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। 

বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক হারুন অর রশিদ জানান, একাদশে ভর্তি প্রক্রিয়া এবার কিছু দেরিতে শুরু হয়েছে। এজন্যই হয়তো প্রথম দিনে আবেদন কম পড়েছে। তবে ভর্তির মূল সার্ভারটি আমাদের কাছে না থাকায় বিস্তারিত জানার সুযোগ হয়নি। ভর্তি কার্যক্রমের দ্বিতীয় বা তৃতীয় দিনে এ বিষয়ে সঠিক তথ্য জানা যাবে। এর মধ্যে ভর্তির আবেদনও বাড়বে।

এর আগে গতকাল রোববার থেকে শুরু হয় একাদশের অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম। ভর্তির জন্য পর্যাপ্ত আসন থাকলেও, ভালো কলেজের আসনগুলো নিয়ে এবারও ঝামেলা পোহাতে হবে শিক্ষার্থীদেরকে। কারণ সারাদেশ উল্লেখযোগ্য কলেজগুলোতে আসন রয়েছে ৫০ হাজারের কিছু বেশি, যেখানে এ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থী সংখ্যা ১ লাখেরও অনেক বেশি। 

কলেজ পরিদর্শক বলেন, ভালো কলেজ বা খারাপ কলেজ বলে কিছু নেই। পড়তে হয় নিজেকেই। তবে মানুষের মধ্যে যেহেতু এমন একটি বিশ্বাস তৈরি হয়ে গেছে, সেজন্য ভর্তি নিয়ে এক ধরনের কৃত্রিম উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। যেটি পুরোপুরিভাবেই অমূলক। 

Advertisement

আন্তঃ শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবার পাস করেছে ১৬ লাখ ৯০ হাজার জন শিক্ষার্থী, এদের মধ্যে এক লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। যেখানে তাদের ভর্তির জন্য আসন আছে ২৫ লাখেরও বেশি। তবে এত আসন থাকা সত্ত্বেও ভালো কলেজ গুলোতে এক লাখের মতো এ-প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারবে না।

হারুন অর রশিদ বলেন, ভালো-খারাপ চিন্তা না করলে আসন নিয়ে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তাছাড়া একাদশে যে কলেজগুলো শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি পেয়েছে, তার সবগুলোই প্রতিষ্ঠান হিসেবে বেশ ভালো। 

তবে অভিবাবকরা কলেজ পরিদর্শক এর এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন। কামরুল হাসান নামে এক অভিভাবক বলেন, আমার কন্যাকে যদি ভিকারুন্নেসা কিংবা হলিক্রস এ ভর্তি করতে না পারি, তাহলে নিশ্চিত ভাবে বলা যায় সে অনেকটা পিছিয়ে পড়বে। কারণ সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা পদ্ধতির সমান নয়। বিগত বছরগুলোর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির পরিসংখ্যান লক্ষ্য করলেও এর প্রমাণ পাওয়া যায়। 

নিশাত তাসনিম নামের আরেক অভিভাবক বলেন, একাদশ-দ্বাদশ শিক্ষার্থী জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি বছর। ভালো কলেজে ভর্তি না হতে পারলে অনেক ভালো শিক্ষার্থীরাও এইখানে এসে পিছিয়ে পড়ে। এজন্য ছেলেকে নটরডেম বা রাজউকের মতো কলেজে ভর্তি করানোর চেষ্টা করছি। 

নিশাত তাসনিম বলেন, সন্তানের ভাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়া নিয়ে আমার সংশয় রয়েছে।

এ ব্যাপারে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মু. জিয়াউল হক বলেন, করোনা দুঃসময়ে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করা গেছে এটি আমাদের জন্য আনন্দের। শিক্ষার্থীদের জন্য পছন্দের কলেজে ভর্তি হতে না পারলে মন খারাপ না করার পরামর্শ রইল। বরং যে কলেজে তারা ভর্তি হবে, সেটিকেই তারা যেন বড় ও প্রাণবন্ত করে তোলে।

দেশের সব সরকারি-বেসরকারি কলেজগুলোর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে আগামী ২০ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে। 

সব প্রক্রিয়া শেষ করে আগামী ১৩ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর কলেজগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে বলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি জানিয়েছে।

এবার সর্বোচ্চ ১০টি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে পারবেন শিক্ষার্থীরা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!