ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

বহিরাগতদের উৎপাতে উদ্বিগ্ন ঢাবি শিক্ষার্থীরা

শোয়াইব আহমেদ, ঢাবি
প্রকাশিত: ১২:২৩, ৯ জানুয়ারি ২০২২
বহিরাগতদের উৎপাতে উদ্বিগ্ন ঢাবি শিক্ষার্থীরা
ফাইল ছবি

সাপ্তাহিক বন্ধের দিনগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঢল নামে নানা পেশার মানুষের। বিকেল হতেই মানুষের ভিড়ে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা যেন রূপ নেয় কোনো পার্কের রূপে। বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, হাকিম চত্বর, সেন্ট্রাল লাইব্রেরি, কলাভবন এলাকায় এসব দিনগুলোতে মানুষের ভিড়ে পা রাখাই দায় হয়ে যায়। নিয়মিতই ঘটছে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। তাই বহিরাগতদের এমন উৎপাতে উদ্বিগ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। 

সাপ্তাহিক বন্ধের দিন শুক্রবার ও শনিবারে এই এলাকায় মানুষের ভিড় এতটাই বেড়ে যায় যে মানুষ ঠেলে গন্তব্যে যেতে হয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের। এতে একদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ যেমনি নষ্ট হয় আবার একইসাথে প্রায়ই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাক্ষী হতে হয় নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলোও ঘটে এমন ভিড়ের সময়েই। 

গত শুক্রবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে তৃতীয় লিঙ্গের দুই গ্রুপের (হাতিরপুল হিজড়া গ্রুপ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার হিজড়া গ্রুপ) সংঘর্ষ বাধে। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের এক কর্মকর্তার ছেলেসহ উভয় গ্রুপের অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। 

Advertisement

গত কয়েকদিন আগে, বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বরের সামনে থেকে সাহায্য চাইতে এসে এক ছাত্রীকে অজ্ঞান করে তার ব্যাগ নিয়ে যায় একটি চক্র। সেই ব্যাগে ওই শিক্ষার্থীর গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, চার হাজার টাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ডও ছিলো। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগত বখাটে ছেলেদের আনাগোনা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরাও শঙ্কায় থাকে নিজ ক্যাম্পাসে। এর বাইরে টিকটক তৈরি করতে অস্বাভাবিক পোশাক ও অদ্ভুত আচরণের যুবক-যুবতীদের উপদ্রবও অনেকদিনের। 

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তারা নিজেদের ক্যাম্পাসে নিজেরাই অনিরাপদ। শিক্ষার্থীদের থেকে জিনিসপত্র ছিনতাইয়ের ঘটনা, বহিরাগতদের মারধরের ঘটনা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারাও নির্যাতনের অভিযোগও আছে। তাদের দাবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি বহিরাগত প্রবেশে নিয়ন্ত্রণ, ভারি যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ইত্যাদির ব্যাপারে প্রক্টরিয়াল টিম কড়া অবস্থান নেয় তাহলেই শিক্ষার্থীরা এমন উৎপাত থেকে মুক্তি পাবে। 

উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবির হোসেন গিয়াস ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, শুক্রবার বিকেলে কেন্দ্রীয় মসজিদ ও লাইব্রেরির পাশে তৃতীয় লিঙ্গের দুই গ্রুপের ভিতর প্রচন্ড মারামারি দেখলাম। সেখানে ৫/৭ জন আহতও হয়। অথচ তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ না। দেশের একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে বাইরের মানুষের এমন ঘটনা ঘটানো মোটেই কাম্য নয়। তাদের মারামারিতে সেখানে থাকা সাধারণ শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে যায়। নিজেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। এছাড়া ও রাতের বেলায় আমরা ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছি যার ফলে আমাদের মূল্যবান জিনিসপত্র যেমন হারাতে হচ্ছে তেমনি আমাদের জীবন নিয়ে ও শঙ্কা বাড়ছে। ক্যাম্পাসে চুরি, ছিনতাই, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্বারা নির্যাতিত হওয়ার ঘটনা নিয়মিতই ঘটছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি এ ব্যাপারে কড়া অবস্থানে না যায় তাহলে এর ফল আরো ভয়াবহ হতে পারে। যা ভুগতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় লিঙ্গের দুই গ্রুপের যে ঘটনা ঘটেছে তা মোটেই কাম্য নয়, তাদের তো ভেতরে আসারই কথা না। আমরা প্রশাসনকে এ ব্যাপারে আইনানুগ সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিতে বলেছি৷ আমাদের ক্যাম্পাস উন্মুক্ত হওয়ায় সেটির কিছু নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বহিরাগতদের ব্যাপারে আমরা আগেও নির্দেশনা দিয়েছি যাতে অযথা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ভিড় না করে। 

তিনি আরো বলেন, শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা করা আমাদের কাছে অগ্রগণ্য। এ ব্যাপারে সবার সহযোগিতা দরকার। শিক্ষার্থীদের আমাদের সব বিষয়ে জানানো উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়কে কিভাবে বহিরাগত মুক্ত ও সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ রাখা যায় সে ব্যাপারে সব ধরনের পরামর্শ প্রত্যাশা করি৷

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
ট্যাগ: ঢাবি সংঘর্ষ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!