ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

অনশন ভাঙতে সমস্বরে অনুরোধ করলেন অনশনকারীদের

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:২৬, ২৫ জানুয়ারি ২০২২
অনশন ভাঙতে সমস্বরে অনুরোধ করলেন অনশনকারীদের
শপথ বাক্য পাঠ করে ভিসি পদত্যাগের পূর্ব পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করেন শিক্ষার্থীরা

আমরণ অনশনে থাকা শিক্ষার্থীদের শরীরের অবস্থার দিক বিবেচনা করে একশ আটচল্লিশ ঘন্টা পর অনশন ভাঙতে সমস্বরে অনুরোধ করলেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় ভিসি বাসভবনের সামনে এক শপথ বাক্য পাঠ করে ভিসি পদত্যাগের পূর্ব পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

আরো পড়ুন: শাবিপ্রবিতে শিক্ষকের ফেনসিডিল পৌঁছে দিতে আটক দুই নিরাপত্তাকর্মী

Advertisement

শপথ বাক্যে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, স্বৈরাচারী ভিসির পদত্যাগের পূর্ব পর্যন্ত আমরা আমাদের আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাবো। অনশনরত ভাইবোনদের এতদিনের অকুতোভয় সংগ্রামের অনুপ্রেরণা বুকে ধারণ করে আরো জীবন্ত শক্তি ও তেজে আমরা আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাবো। তাদের ভীষণ যন্ত্রণা আমরা কখনো বৃথা যেতে দেবো না। দিন হোক, রাত হোক, আমরা এই আন্দোলনের মাঠ ছেড়ে যাবো না। আমরা আমাদের এক দফা দাবি আদায় করেই তারপর ঘরে ফিরবো।

আরো পড়ুন: জাবিতে ছাত্রীর বিরুদ্ধে ছাত্রকে থাপ্পড় মারার অভিযোগ 

এসময় অনশনরত শিক্ষার্থীরা জানান, 'যেদিন অনশনে বসেছি আমরা এই ভিসির পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছি। এখন যদি অনশন ভাঙি তাহলে নিজেকে কি জবাব দেবো। অনশন করে যদি মারা যাই তাতে কোনো দুঃখ নেই। আমরা দীর্ঘ ১৪৮ ঘন্টা উপবাস করে আমরা ক্ষুধা তৃষ্ণা একদম ভুলে গিয়েছি। এই ভিসির পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আশা করি অনশন চালিয়ে যেতে পারবো। আমরা আমাদের অনশন অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত আছি।'

আরো পড়ুন: শাবিপ্রবিতে অনশনস্থলে শিক্ষার্থীদের মেডিকেল সেবা বন্ধ

সহপাঠীদের এতদিনের কষ্টগুলো সইতে না পেরে সবাই সম্মিলিত ভাবে অনশন ভাঙার অনুরোধ করেন এবং ভিসির পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। প্রয়োজনে ভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। পরে অনশনকারীরা তাদের নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনার জন্য এক ঘন্টা সময় নেন।

জানা যায়, গত ১৯ জানুয়ারি থেকে ভিসি পদত্যাগের দাবিতে ২৪ জন শিক্ষার্থী আমরণ অনশন শুরু করেন। পরবর্তীতে গণঅনশনে আরো পাঁচজন শিক্ষার্থী অংশ নেন। বাবা অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় পরদিন একজন শিক্ষার্থী বাসায় চলে যান। বর্তমানে ২৮ জন শিক্ষার্থী অনশন চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ২০ জন হাসপাতালে আছেন। যারা একটু সুস্থ বোধ করেন তারা অনশনস্থলে ফিরে আসেন। অনশনের দ্বিতীয় দিন থেকে একের পর এক শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে অনেকের অবস্থা গুরুতর। ভিসির পদত্যাগ না হলে তারা এক ফোঁটা পানিও মুখে তুলবেন না বলে জানায়। গতকাল শিক্ষার্থীরা একসাথে গণঅনশনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ভিসির পদত্যাগের জন্য সবাই একসাথে মরতে রাজি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!