বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের (এসএম) মাঠে এই গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
হলের মাঠে ফুল আর নানারকম সাজসজ্জা করে দিয়ে তৈরি হয় হয়েছে গায়ে হলুদের মঞ্চ। সেই মঞ্চে ফলমূল, মিষ্টির পসরা দিয়ে সাজানো হয়েছে মঞ্চ। মঞ্চের পেছনের দৃশ্যপটে লাল-হলুদ কালিতে লেখা ছিল ‘রবিনের গায়ে হলুদ’। সেই মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে তার বন্ধুদের অভ্যর্থনা আর উৎসব আমেজের মধ্যদিয়ে গায়ে হলুদ উদযাপন করা হয়।
.png)
হলের মধ্যে এমন ভিন্নরকমভাবে গায়ে উদযাপন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের মাঝে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই গায়ে হলুদের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে তাদেরকে অভিবাদন জানাচ্ছেন। বিকেল থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গ্রুপগুলোতে এ ছবিগুলো ভাইরাল হয়।
রবিন ও তার বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের একই বর্ষের ও একই বিভাগের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হতে যাচ্ছে তারা। পারিবারিকভাবে এই বিয়ের আয়োজন হচ্ছে। বাড়িতে বিয়ের আয়োজনে সব বন্ধু হয়তো উপস্থিত হতে পারবে না তাই ভিন্নধর্মী এ গায়ে হলুদের আয়োজন করেছে হলের বন্ধুরা। নিজ ক্যাম্পাসে এমন আয়োজন করতে পেরে অন্যরকম অনুভূতির কথাও জানান রবিন। রবিন ও ওয়াফা বিনতে ওয়াকির সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিচয় ছিল। সেই পরিচয় এবার পরিণয়ে রূপ নিতে যাচ্ছে।
রবিন ও ওয়াকি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী। রবিন থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে আর ওয়াকি থাকেন রোকেয়া হলে। রবিনের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলায়। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরিপুরে। তিনি বড় হয়েছেন কুমিল্লার সদর উপজেলায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রবিন ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আমি আর ওয়াকি একই বিভাগের শিক্ষার্থী। প্রথম বর্ষ থেকেই আমাদের ভালো পরিচয়। তবে তেমনভাবে কোনো সম্পর্কে আমরা আবদ্ধ ছিলাম না। এখন পারিবারিকভাবে আমরা বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ হচ্ছি। হলের বন্ধুরা এ বিষয়ে জেনে তারা আমাকে না জানিয়ে এই ভিন্নধর্মী গায়ে হলুদের আয়োজন করে। হঠাৎ করে এমন আয়োজনে আমিও খুব সারপ্রাইজড্। ক্যাম্পাসে এমন ভিন্নধর্মী এ গায়ে হলুদ আয়োজন করায় সহপাঠীদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।
তিনি আরো বলেন, বাড়িতে বিয়ের আয়োজন করলে সব বন্ধু অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারবে না। আর নিজ ক্যাম্পাসে এমন আয়োজনের অংশীদার হতে পেরে সত্যি খুব ভালো লাগছে। সাধারণত এরকম গায়ে হলুদ চোখে পড়ে না। আমরা বন্ধুরা সবাই মিলে বিষয়টি বেশ উপভোগ করেছি।