এই উৎসবে যে কেউ চাইলে এক বা একাধিক বই স্বেচ্ছায় দিয়ে যাচ্ছে। সেই বইয়ে নিজের নাম পরিচয় লিখে দিয়ে যাচ্ছে বই। আর উৎসবে আগন্তুক সকলকে এক কাপ চা দিয়ে আপ্যায়ন করছে হল আয়োজকরা। তাই এ উৎসবের নাম দিয়েছে ‘এক কাপ চা, একটি বই এবং এক প্রজন্ম ভালবাসা’।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ. এফ. রহমান হল ছাত্রলীগ এবং হল সাহিত্য সংসদের উদ্যোগে বই উৎসব- ২০২২ নামে এই উৎসব আয়োজন করে। আজ শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাবির স্যার এএফ রহমান হলে সারাদিনব্যপী এ উৎসব চলছে।
.png)
উৎসবে প্রাঙ্গণে দেখা যায়, যে কেউ একটি বা সাধ্যমতো একাধিক বই স্বেচ্ছায় দিয়ে যাচ্ছে। বইয়ে দাতাগণ তাদের নাম, বিভাগ ও সেশনসহ ব্যক্তিগত পরিচয় লিখে বইগুলোর পরবর্তী পাঠকের উদ্দেশে একটি করে মেসেজ লিখে যাচ্ছে। আর উৎসবে যেই যাচ্ছে তাকে আপ্যায়নস্বরুপ চা খাওয়ানো হচ্ছে। আর এখানে একদল শিল্পী লোকগান গেয়ে এই বই উৎসবকে আরো প্রাণবন্ত করে তুলছেন।
উৎসবে বই প্রদানকালে ওই হলেরই এক শিক্ষার্থী বলেন, আমি এখানে চারটি বই দিলাম। এরকম একটি আয়োজনে অংশ নিতে পেরে অনেক আনন্দিত এবং নিজেকে অনেক গর্বিত মনে করছি।
ব্যতিক্রমধর্মী এ বই উৎসবের ব্যাপারে এফ রহমান হল সাহিত্য সংসদের সভাপতি নাসিম হাসান বলেন, ‘এক কাপ চা, একটি বই এবং এক প্রজন্ম ভালবাসা’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে, হল পর্যায়ে এক ঝাঁক উদ্যমী পাঠক তৈরি করার জন্য ও বই পড়ার প্রতি ছাত্রসমাজের আগ্রহ বৃদ্ধির লক্ষ্যেই মূলত আমাদের এই বই উৎসব -২০২২ এর আয়োজন। এ উৎসবে সকলকে স্বাগত এবং আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।
স্যার এএফ রহমান হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উক্ত উৎসবের আয়োজক মোনেম শাহরিয়ার মুন বলেন, আমাদের হল সাহিত্য সংসদের অলরেডি তেরোশো বই আগে থেকেই আছে। আমরা চিন্তা করেছি সাহিত্য সংসদে আরো দুই থেকে আড়াই হাজার বই তুলে দেব। এজন্যই মূলত আমাদের এ আয়োজন। তবে এ উৎসবের আরেকটি উদ্দেশ্য হচ্ছে যে, এখানে যিনি বই দিচ্ছেন, বইয়ে তার পরিচয় লেখা থাকবে। এই ব্যক্তিগত পরিচয় এবং তথ্য অনুসারে তাদের সাথে ভবিষ্যত প্রজন্মের পাঠকরা যোগাযোগ করে যেন একটি ভালোবাসার সুসম্পর্কে আবদ্ধ হতে পারে।
তিনি আরো বলেন, আমরা চাই এই আয়োজন শুধু ২০২২ সালেই সীমাবদ্ধ না থেকে ভবিষ্যতে যারা নেতৃত্বে আসবে তারাও এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখুক। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য হলগুলোর প্রতিও আমার আহ্বান থাকবে যে, তারাও যেন এ ধরনের আয়োজন করে।
উল্লেখ্য, উক্ত উৎসবে প্রদানকৃত বইগুলো স্যার এফ রহমান হল সাহিত্য সংসদের লাইব্রেরিতে সংরক্ষণ করা হবে এবং হলের যে কোনো শিক্ষার্থী সেগুলো পড়তে পারবেন।