রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতিসৌধ এলাকায় ডিবি পুলিশের হাতে আটক হন তিনি।
জালিয়াতি চক্রের সদস্য আতিক ঠাকুরগাঁওয়ের গোবিন্দ নগর থেকে ভর্তি হতে আসা আহনাফ মোর্শেদের সঙ্গে ভর্তির ব্যাপারে আড়াই লাখ টাকার চুক্তি করেছিলেন বলে জানা গেছে।
.png)
আহনাফের দেওয়া তথ্য মতে, গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষায় বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘এ’ ইউনিটে অংশ নেন আহনাফ মোর্শেদ। পরবর্তীতে ভর্তির জন্য আবেদন করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে। এতে মেধাতালিকা না আসায় তার কলেজের বন্ধু ফরহাদ হোসেন তাকে অবৈধভাবে ভর্তির পরামর্শ দেন। একইসঙ্গে তার পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া বড় ভাই ইকবালের সহায়তা নিতে বলেন। আহনাফ তার বন্ধুর পরমর্শ অনুযায়ী ইকবালের সঙ্গে কথা বললে ইকবাল তাকে ভর্তি করিয়ে দিতে আশ্বস্ত করেন।
পরে ইকবাল শৈলকূপার বড়দার লালচাঁন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। এরপর ২২ ফেব্রুয়ারি লালচাঁন ওই ভর্তিচ্ছুর সঙ্গে ক্যাম্পাসে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় আড়াই লাখ টাকার বিনিময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি করানোর আশ্বাস দেন তাকে। সেদিন লালচাঁনের সঙ্গে আতিকও ছিলেন। এ সময় আহনাফের থেকে ১৮ হাজার টাকা নিয়ে রশিদের মাধ্যমে ৮ হাজার ১০০ টাকা ব্যাংকে জমা দেন।
পরে আহনাফের আত্মীয়ের পরিচিত এক কর্মকর্তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। পরে ওই কর্মকর্তা বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানান। আহনাফের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতিসৌধে জালিয়াতি চক্রের সদস্য আতিককে ডাকেন। এ সময় ডিবি পুলিশ তাকে হাতেনাতে আটক করেন। এসময় তার হাতে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে ভর্তির একটি ফরম পাওয়া যায়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে কথা বলে ডিবি পুলিশ আতিককে ইবি থানায় সোপর্দ করেন।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও উপ-রেজিস্ট্রারের (শিক্ষা) স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ওই বিভাগে ভর্তির একটি তালিকা তৈরি করেন জালিয়াত চক্রটি। সেই তালিকাটি ভুয়া এবং ভর্তির ক্ষেত্রে এমন কোনো তালিকা দেওয়া হয় না বলে জানিয়েছে রেজিস্ট্রার দফতর। তাৎক্ষণিক জিজ্ঞাসাবাদে স্থানীয় রাকিব ও লালচাঁনের নাম পুলিশকে জানান আতিক। তাদের নির্দেশ অনুযায়ী ভুক্তভোগীদের সঙ্গে দেখা করতে আসে বলেও জানায় আতিক।
ভুক্তভোগী আহনাফ বলেন, পরিচিত এক লোকের মাধ্যমে লালচাঁনের সঙ্গে আড়াই লাখ টাকার চুক্তি হয়। এরইমধ্যে তাদের ১৮ হাজার টাকা দিয়েছি। পরে আমার বাবা বাঁধা দেওয়ায় ও বিষয়টি অনিশ্চিত জেনে ক্যাম্পাসের পরিচিত এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে ডেকে এনে পুলিশে ধরিয়ে দেই।
প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, জালিয়াতি চক্রের ওই সদস্যকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
এদিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বাদী হয়ে মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন ইবি থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত) মোস্তাফিজুর রহমান।
তিনি বলেন, ভিক্টিম বাদী হয়ে মামলা করেছে। আগামীকাল (সোমবার) আটক ব্যক্তিকে কোর্টে চালান করা হবে।