করোনাভাইরাস নিয়ে ২০২১ সালে ১৭টি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে তার। স্কোপাসের জরিপ অনুযায়ী ২০২১ সালে প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা ৩৭। শুধু তাই নয় জরিপে পুরো বাংলাদেশের মধ্যে সেরা ২০ গবেষকের মধ্যেও রয়েছেন। সম্প্রতি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের জন্য ‘অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে’ স্কলারশিপও পেয়েছেন। বলছিলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শফি মাহমুদ -এর কথা। তিনি জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী।
বর্ষসেরা এই গবেষক বলেন, গবেষণায় রাতারাতি সফল হয়ে গেছি এমনটা না। আমার প্রথম গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয় ২০১৯ সালের মার্চে, কিন্তু এটি জমা দেই ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে। এই একটি পেপার প্রায় তিন বছরের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর প্রকাশিত হয়। তবে এতো দীর্ঘ সময় লাগার পরেও হার মেনে নেইনি। প্রথমদিকে ধৈর্য নিয়ে কাজ করার সুবাদে সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই এক বছরে ৩৭টা পেপার প্রকাশ করতে পেরেছি।
.png)
২০১৯ সালে স্নাতক শেষ করা এই গবেষক বলেন, বর্তমানে চাইলেই গবেষণা প্রবন্ধ দ্রুত প্রকাশ করা যায়। তবে ভালো মানের প্রবন্ধ প্রকাশের জন্য দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা লাগে। আমি তিন বছরে আরো প্রবন্ধ প্রকাশ করতে পারতাম। তবে আমি চাচ্ছিলাম আমার কাজ ছোট হোক কিন্তু একটা ভালো জায়গায় যাক।
করোনাভাইরাস নিয়ে ২০২১ সালে তার ১৭টি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে বলা জানায় এই গবেষক। তিনি বলেন, করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বাসায় ২০২০ সালের আগস্ট থেকে গবেষণা শুরু করি। আমি মূলত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবু সালেহ স্যারের অধীনে কাজ করি। করোনাভাইরাস নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে বেশিরভাগ কাজ ছিলো প্ল্যান্ট কম্পাউন্ড নিয়ে। সাধারণত এশিয়া মহাদেশের দেশগুলোতে যে প্ল্যান্টগুলো পাওয়া যায় সেগুলোতে কি কি কম্পাউন্ড আছে তার তালিকা করতাম। তারপর যে প্রোটিনের জন্য করোনাভাইরাস আমাদের শরীরে সংক্রমণ করছে তার বিরুদ্ধে নির্বাচিত সবচেয়ে উপযোগী কম্পাউন্ডগুলো রান করতাম। যে কয়েকটি কম্পাউন্ড সবচেয়ে বেশি ভালো ফলাফল দিতো সেগুলো নিয়েই চলত আমাদের গবেষণা।
তিনি জানায়, বর্তমানে ক্যান্সার রোগ নির্ণয়ের কেমিক্যালগুলো নিয়ে কাজ করছেন তিনি। মূলত তিনি কম্পিটিশনাল কাজ করেন, বিভিন্ন ড্রাগের ডিজাইন করেন। ড্রাগের কোনো মূল কম্পাউন্ড পরিবর্তন করলে সেটি প্রোটিন বা ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে সেটি নিয়েই মূলত গবেষণা চালাচ্ছেন। পরবর্তীতে ওষুধ আবিস্কারের দিকে ধাবিত হবেনও বলে জানান এই তরুণ গবেষক।
তরুণ গবেষক শফি মাহমুদ বলেন, কিছু কিছু কেমিক্যালের দাম অনেক বেশি। কিন্তু প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমেও কিছু কাজ করে নেওয়া যায়। কম্পিটিশনাল গবেষণা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলকভাবে কম হয়। এজন্য ল্যাবগুলোতে যদি কিছু উন্নতমানের কম্পিউটার দেওয়া হয় তাহলে কম্পিটিশনাল কাজগুলো করতে সহজ হবে। এতে গবেষণার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়বে। বাংলাদেশে গবেষণা খাতে দেওয়া বরাদ্দ অপ্রতুল। শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী করতে উন্নতমানের ল্যাব তৈরির পাশাপাশি গবেষণায় আরো বরাদ্দ বাড়াতে হবে।