ক্লাস টুতে পড়ার সময় থেকেই মঞ্চে কাজ করতেন হিমু। একবার এক সাক্ষাৎকারে হিমু নিজেই জানান, ছোটবেলা থেকে স্থানীয় হাইফাই কৌতুক শিল্পগোষ্ঠী ও ফ্রেন্ডস নাট্যগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করতেন তিনি। ১৯৯৯ সালে এসএসসি পরীক্ষার পর ঢাকায় আসেন হিমু। প্রথমে ভর্তি হন নাগরিক নাট্যাঙ্গনে। এরপর কাজ করেন আরো কয়েকটি নাটকের দলে। ফ্রেঞ্চ নামক নাট্য দলের হয়ে তিনি অভিনয় করেন। নাটকটিতে নির্দেশনা দিয়েছিলেন তার মামা মূর্শেদ।
এরপর এক বড় ভাইয়ের পরামর্শে ফটোশুট করে বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী সংস্থায় মডেলিংয়ের জন্য জমা দেন। তখন এইডস নিয়ে সচেতনতামূলক একটি বিজ্ঞাপনে কাজ করেন। পরে দেখা যায় আরো কয়েকটি বিজ্ঞাপন চিত্রে। একটি চায়ের বিজ্ঞাপনচিত্রে তাকে দেখার পর প্রথম হিমুকে নাটকে সুযোগ দেন নির্মাতা তাহের শিপন। নাটকের নাম ছিল ‘পি আই’। তার প্রথম সহশিল্পী ছিলেন প্রয়াত দিলীপ চক্রবর্তী।
.png)
২০০৫ সালে বিনোদন দুনিয়ায় কাজ শুরু করেন হিমু। এই সময়ে তার আসল নাম হুমায়রা নুসরাত হিমু থেকে হুমায়রা হিমু হয়। তার এই নাম বদলের পেছনে রয়েছে অভিনেতা টনি ডায়েসের ভূমিকা।
এ প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে হিমু বলেছিলেন, টনি ভাইয়ের সঙ্গে প্রথম একটা টেলিফিল্ম করি। উনি তখন আমাকে বলেন, তুমি দুই অক্ষরের নাম দাও। এর আগে আমি কেবল হিমু বলে পরিচয় দিতাম। তখন টনি ভাই বলেন, পৃথিবীর যত বিখ্যাত মানুষ আছে সবার নাম দুই অক্ষরের। এরপর থেকেই আমি হোমায়রা হিমু হয়ে যাই।
২০০৫ সালে তিনি টেলিভিশন মিডিয়াতে এবং নাটকে যুক্ত হন মো. জামালউদ্দিনের নাগরিক নাট্যাঙ্গন অনস্যাম্বলে।
২০০৬ সালে হিমুর প্রথম নাটক ছায়াবীথি প্রচারিত হয়। একই বছর পিআই (প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর) নামের একটি সিরিয়াল নাটকেও অভিনয় করেন। এরপরে তিনি ‘বাড়ি বাড়ি সারি সারি’, ‘হাউজফুল’, ‘গুলশান এভিনিউ’সহ অনেক জনপ্রিয় নাটকে অভিনয় করতে থাকেন। তিনি ২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আমার বন্ধু রাশেদ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে তার অভিষেক হয়।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) বিকেলে উত্তরার একটি বাসা থেকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় হিমুকে উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় শুক্রবার (৩ নভেম্বর) পলাতক তার কথিত প্রেমিক মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন রুফিকে আটক করে র্যাব।