ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ প্রবাস জীবন ]

দিন-রাত খেটেও ৫ মাসের বেতন বাকি, মালয়েশিয়ায় অনাহারে ৩৬ বাংলাদেশি

মালয়েশিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:৩৮, ২৬ মে ২০২৪
দিন-রাত খেটেও ৫ মাসের বেতন বাকি, মালয়েশিয়ায় অনাহারে ৩৬ বাংলাদেশি
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মালয়েশিয়ায় ৫ মাস কাজ করেও বেতন পাচ্ছেন না ৩৬ বাংলাদেশি কর্মী! বেতন চাইতে গেলে দেই-দিচ্ছি করে সময় পার করছে মালিকপক্ষ। গত ৫ মাস কাজ করার পর বেতনের আশায় অনহারে-অর্ধাহারে দিন পার করছেন চলমান কলিং ভিসায় মালয়েশিয়ায় আসা ৩৬ বাংলাদেশি কর্মী।

এই ৩৬ জন ছাড়াও দেশটিতে যাওয়া বিভিন্ন কোম্পানির কর্মীদের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটছে বলে জানা গেছে।

সকাল থেকে সন্ধ্যা, ওভারটাইম, ছুটির দিনে তিনগুণ কাজ করেও বেতন পাচ্ছেন না তারা। বেতন পাওয়ার আশায় কেউ সাহস করে প্রতিবাদ করছেন আবার কেউ বা তা নীরবে সয়ে যাচ্ছেন। হুকুমের গোলাম হয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের।

Advertisement

জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৯ জুন স্বপ্নের দেশ মালয়েশিয়া পাড়ি জমান মো. আব্দুল আউয়াল, মাছুমসহ ৩৬ বাংলাদেশি। তারা দালাল মারফত বাংলাদেশের গ্রিনলাইন ওভারসিজের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার জংথিয়ান এআরডিসি এসডিএন বিএইচডি কোম্পানিতে যান। কুয়ালালামপুরের বুকিত জলিল এলাকায় কোম্পানির প্রজেক্টে কাজ করছেন তারা। প্রথমে ২-১ মাসের বেতন পেলেও ৫ মাসের বেতন বাকি এখনো। কোম্পানি মানছে না শ্রম আইন। বেতন চাইতে গেলেই মালিকপক্ষ দেই দিচ্ছি বলে সময় পার করছে।

গত ৫ মাসে ৩৬ জনের কেউই দেশে পরিবারকে টাকা পাাতে পারেননি। এমনকি তাদের কাছে হাত খরচের টাকাও নেই। কর্মীরা বলছেন, চলতি বছরের ১৯ জুলাই ভিসার মেয়াদও শেষ হয়ে যাবে।

কোনো উপায় না পেয়ে ২৪ মে ৩৬ জন কর্মী মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে কোম্পানির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। তাৎক্ষণিক ৩৬ জনকে হাইকমিশনে বসিয়ে রেখে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো: শামীম আহসানের নির্দেশে মালিকপক্ষকে ডেকে আনা হয়। কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার লুহ সুই লিনের সঙ্গে আলোচনায় বসেন প্রথম সচিব (শ্রম) এ এস এম জাহিদুর রহমান। দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টার আলোচনায় কোম্পানির পক্ষ ৩৬ জন কর্মীর বকেয়া বেতন আগামী জুন ও জুলাই মাসে পরিশোধ করা হবে বলে উপস্থিত কর্মীদের সামনে হাইকমিশনকে আশ্বাস দেওয়া হয়।

আলোচনার পর ৩৬ জন কর্মীর বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথম সচিব (শ্রম) এ এস এম জাহিদুর রহমান ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। জুন এবং জুলাই মাসে ৩৬ জন কর্মীও বকেয়া বেতন পরিশোধ করবে এবং দ্রুত কর্মীদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে। এছাড়া যদি কোনো কর্মী সমস্যায় থাকেন বা মালিকপক্ষের আচরণ সম্পর্কে হাইকমিশনকে অবিহিত করেন তাহলে হাইকমিশন দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!