ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ ফিচার ]

লেজার প্রযুক্তির মাধ্যমে খোঁজ মিলল আমাজনের প্রাচীন নগর-সভ্যতা! 

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬:২২, ২৮ মে ২০২২
লেজার প্রযুক্তির মাধ্যমে খোঁজ মিলল আমাজনের প্রাচীন নগর-সভ্যতা! 
আমাজন জঙ্গলে লেজার চিত্রে এই শহরের ছবি ধরা পড়ে। ছবি: সংগৃহীত

আমাজনের জঙ্গলের আড়ালে একদা ছিল এক প্রাচীন শহর। এতদিন কোনো মানুষ এই শহরের খোঁজ পাননি। তবে সম্প্রতি এই শহরের খোঁজ মিলল অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে।

নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইদানিং বেশ কিছু হারানো শহরের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে। নতুন এই প্রযুক্তির নাম ‘লেজার ইন দ্য স্কাই’। ঘন গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনের গভীরে কী আছে, তা জানতেই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

এই প্রযুক্তিতে হেলিকপ্টার, ছোট বিমান বা ড্রোনের সঙ্গে যুক্ত একটি লেজার স্ক্যানার দিয়ে আকাশ থেকেই ভূখণ্ড জরিপ করে দেখা হয়। এই লেসারের স্ক্যানিংয়ের ফলে ওই ভূখণ্ডের একটি ডিজিটাল মডেল কম্পিউটারের পর্দায় ধরা পড়ে।

Advertisement

ড্রোনের সঙ্গে যুক্ত একটি লেজার স্ক্যানার দিয়ে ভূখণ্ড জরিপ করে দেখা হয়। ছবি: সংগৃহীত

বলিভিয়ার ল্যানোস ডি মোজোস সাভানা জঙ্গলে এই শহরগুলোর খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। বহু বছর ধরে ঘন গাছের ছাউনির নিচে লুকিয়ে ছিল এই শহরগুলো।

গবেষকদের মতে, এই শহর ৫০০ থেকে ১৪০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে তৈরি। জঙ্গলের কাসারাবে সম্প্রদায় এই শহরগুলো তৈরি করেছিল বলেই প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।

আরো পড়ুন: শেষমেশ কী হয়েছিল লায়লা-মজনুর?

‘লেজার ইন দ্য স্কাই’ প্রযুক্তিতে যে ছবি ধরা পড়েছে, তাতে দেখা গিয়েছে, ঘন জঙ্গলের ভেতরে বিস্তৃত এবং জটিল কিছু কাঠামো। পাশাপাশি ৫৪ একর জুড়ে বিস্তৃত এই কাঠামোতে ১৬ ফুট উঁচু ছাদও রয়েছে। ৩০টি ফুটবল মাঠের সমান এই কাঠামোর পাশে ৬৯ ফুট লম্বা এক পিরামিডের খোঁজও মিলেছে।

এ ছাড়াও আমেরিকা এবং জার্মানির গবেষকদের আন্তর্জাতিক দল এই শহরের কয়েক মাইলের মধ্যে বিস্তৃত জলাধার এবং একাধিক ছোট ছোট কাঠামোও খুঁজে পেয়েছেন।

জঙ্গলের মধ্যে এই নগর-সভ্যতা গড়ে উঠেছিল বলেও গবেষকরা মনে করছেন। ছবি: সংগৃহীত

আর এই লুকনো শহরগুলোর খোঁজ আমাজনে বসবাসকারী সম্প্রদায়ের সম্পর্কে পুরনো সব ধারণা বদলে দিচ্ছে। গবেষকরা মনে করছেন, বনাঞ্চলে বসবাস করলেও আমাজনে এমন কিছু সম্প্রদায় বাস করত, যারা সময়ের তুলনায় বেশ কিছুটা এগিয়ে ছিল।

আমাজনের জঙ্গলে এই নয়া আবিষ্কৃত এলাকাকে কেন্দ্র করে একটি নগর-সভ্যতা গড়ে উঠেছিল বলেও গবেষকরা মনে করছেন।

একই সঙ্গে এই শহরগুলোর প্রাথমিক গঠন দেখে মনে করা হচ্ছে যে, এই সভ্যতার মানুষেরা স্থাপত্যকার্যে বেশ নিপুণ ছিলেন। এবং এই এলাকা যথেষ্ট পরিকল্পনা মাফিক তৈরি করা হয়েছিল বলেও গবেষকরা দাবি করেছেন।

লেজার প্রযুক্তিতে ধরা পড়েছে, ঘন জঙ্গলের ভেতরে বিস্তৃত কাঠামো। ছবি: সংগৃহীত

বিংশ শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত মনে করা হতো, আমাজন অঞ্চলের বাসিন্দারা মূলত শিকারি উপজাতির। এবং আমাজন অঞ্চলের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে থাকা মোজোস সমভূমিতে বছরে কয়েক মাস বন্যা হওয়ার কারণে এই এলাকার বাসিন্দারা স্থায়ী বসতি তৈরি করতে পারেন না।

তবে সাম্প্রতিককালে সাভানা বনাঞ্চল জুড়ে হওয়া আবিষ্কারে সেই বদ্ধমূল ধারণা অনেকটাই মিথ্যে প্রমাণিত করেছে। এই লুকনো শহরগুলোর চারপাশ একটি প্রাচীর দিয়ে ঘেরা ছিল বলেও গবেষকরা মনে করছেন।

জঙ্গলের ঘনত্ব এবং একাধিক উঁচু মাটির ঢিপির কারণে এই শহরগুলোর বেশ কয়েকটি এলাকা এখনও গবেষকদের চোখে ধরা পড়েনি বলেও গবেষকদের দল জানিয়েছেন।

লেজার চিত্রে এই শহরের ছবি ধরা পড়ে।

আমাজন জঙ্গল নিয়ে বিশদে জানতে গবেষকরা প্রথমবার বায়ুবাহিত লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। আর তখনই লেজার চিত্রে এই শহরের ছবি ধরা পড়ে।

তবে জঙ্গলের মধ্যে এই শহুরে এলাকাগুলোতে কতো মানুষ বাস করত, তা এখনও অনুমান করা সম্ভব নয় বলেই জানিয়েছেন গবেষকরা। তবে প্রাথমিকভাবে এই এলাকা মোটামুটি ঘনবসতিপূর্ণ ছিল বলেও তারা মনে করছেন।

এখানকার বাসিন্দারা কেন এই শহর ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন, তা-ও গবেষণা সাপেক্ষ বলেই গবেষকরা মনে করছেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!