তবে কেউ কেউ পুরোনো বন্ধুত্ব বাঁচিয়ে রাখতে পারেন। পাড়ার গলি, স্কুলের মাঠ, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পেরিয়ে হয়তো ছড়িয়ে–ছিটিয়ে যান দূরে কোথাও। নতুন নতুন বন্ধু হয়। তাই বলে পুরোনো বন্ধুত্বে ভাটা পড়ে না কখনো।
একটি ইংরেজি গান আছে, বাংলায় অর্থ দাঁড়ায়, ‘নতুন বন্ধু তৈরি করুন, কিন্তু পুরোনোকেও বাঁচিয়ে রাখুন। একটি হলো রুপা, অন্যটি সোনা’। সন্দেহ নেই, নতুন বন্ধুত্ব মানুষের জীবনের এক অনন্য প্রাপ্তি। প্রত্যেক নতুন বন্ধুই একেকটি নতুন পৃথিবীর মতো। বহমান জীবনে একজন নতুন বন্ধু যুক্ত হওয়া মানে আনন্দ-বেদনার একটি নবদিগন্ত খুলে যাওয়া।
.png)
তবে নতুন বন্ধু নিয়ে ভয়ও আছে। ভুল বন্ধুত্ব কারো গোটা জীবনের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ জন্য অনেকেই নতুন বন্ধু তৈরিতে স্বচ্ছন্দ নন। একসঙ্গে অনেক দিন হাঁটাচলা, বহুমুখী যাচাই–বাছাইয়ের পরই তারা নতুন মানুষকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেন।
আজ ১৯ অক্টোবর, নতুন বন্ধু দিবস। হলিডে ক্যালেন্ডারের তথ্যানুযায়ী, ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে দিনটির আনুষ্ঠানিক চল হয়। প্রথমবারের মতো পালিত হয় ২০০৭ সালে। ২০১২ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে দিনটি দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। দিবসটি পালন করা যেতে পারে। নতুন বন্ধুর সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন। আজকের দিনে কাউকে স্বীকৃতি দিতে পারেন নতুন বন্ধু হিসেবে। অবশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আর তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান পৃথিবীতে প্রতিদিনই কোনো না কোনোভাবে নতুন বন্ধু তৈরি হচ্ছেই।
২০১৯ সালে নেয়া একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনেক প্রাপ্তবয়স্ক নতুন বন্ধু তৈরি করতে দ্বিধাগ্রস্ত। প্রকৃতপক্ষে, সমীক্ষার সময়, গড় আমেরিকান গত ৫ বছরে একটি নতুন বন্ধু তৈরি করেনি। এছাড়াও, অনেক লোক দেখেছে যে ২০২০ এর দশকের গোড়ার দিকে বিশ্বব্যাপী মহামারিটি কেবল নতুন বন্ধুদের দূরে রাখার জন্য একটি অনুঘটক ছিল না, অনেক লোককে কিছু বন্ধু হারাতেও হয়েছিল। দুঃখের বিষয় আজকাল বন্ধুর অভাব বোধ হয়!
দিগন্ত প্রসারিত করা, জীবনে বড় হওয়া এবং মানুষের সঙ্গে নতুন সংযোগ স্থাপন করা কতটা দুর্দান্ত হতে পারে সেই ধারণাকে ঘিরে জাতীয় নতুন বন্ধু দিবস প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তাই নতুন বন্ধুত্ব তৈরি এবং বিনিয়োগে ব্যয় করা কিছু সময় উপভোগ করার জন্য প্রস্তুত হন। ডেজ অব দ্য ইয়ার ও হলিডে ক্যালেন্ডার অবলম্বনে।