আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার উত্তপ্ত মরুভূমিতে উইপোকারা মাটির ওপর ৮ থেকে ১০ ফুট (কখনও কখনও তার চেয়েও বেশি) উঁচু কাদার ঢিবি বা বাসা বানায়। মরুভূমির বাইরের তাপমাত্রা যখন জ্বলন্ত ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, তখন মানুষের পক্ষে এসি ছাড়া ঘরের ভেতর টিকে থাকাই অসম্ভব হয়ে পড়ে।
![]()
.png)
কিন্তু মজার বিষয় হলো, উইপোকার এই মাটির বাসার ভেতরের তাপমাত্রা তখন একদম ফিক্সড ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে আটকে থাকে! দিন হোক কিংবা রাত, বাইরের আবহাওয়া যতই বদলাক না কেন, ভেতরের তাপমাত্রা ১ ডিগ্রিও এদিক-ওদিক হয় না।
কোনো বিদ্যুৎ বা যন্ত্র ছাড়াই কীভাবে এই ক্ষুদ্র পোকাগুলো আস্ত একটা প্রাকৃতিক এসি বা ‘কোল্ড স্টোরেজ’ বানিয়ে ফেলল?
রহস্যটা লুকিয়ে আছে তাদের বাসার অসাধারণ আর্কিটেকচার বা স্থাপত্যশৈলীতে। উইপোকারা তাদের বাসার ভেতরে ও নিচে অসংখ্য সুড়ঙ্গ এবং একদম ওপরে একটি বড় ফাঁপা চিমনি তৈরি করে।
বাসার ভেতরের গরম বাতাস হালকা হয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওপরের চিমনি দিয়ে বাইরে বেরিয়ে যায়। আর ঠিক সেই মুহূর্তে, মাটির নিচের সুড়ঙ্গগুলো দিয়ে বাইরের ঠান্ডা বাতাস ভেতরে ঢোকে এবং মাটির নিচের আর্দ্রতার ছোঁয়ায় তা মুহূর্তেই শীতল হয়ে যায়। একে বিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘প্যাসিভ ভেন্টিলেশন’ (Passive Ventilation)।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার কী জানেন? উইপোকার এই অসাধারণ প্রাকৃতিক এসি মেকানিজম নকল করে জিম্বাবুয়েতে ‘ইস্টগেট সেন্টার’ (Eastgate Centre) নামের একটি বিশাল শপিং মল ও অফিস কমপ্লেক্স বানানো হয়েছে, যা কোনো মেকানিক্যাল এসি ছাড়াই বছরের পর বছর একদম শীতল থাকে এবং ৩৫% বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে!
যে পোকাগুলোর চোখ নেই, যারা সম্পূর্ণ অন্ধ, তারা কীভাবে থার্মোডাইনামিক্স আর বায়ু চলাচলের এই জটিল ফিজিক্স বুঝতে পারল? কে তাদের শেখাল এত নিখুঁত জ্যামিতিক মাপে চিমনি আর সুড়ঙ্গ বানাতে? নিশ্চয়ই মহাবিশ্বের সেই মহান সৃষ্টিকর্তা, রাজাধিরাজ মহান রব, যিনি প্রতিটি সৃষ্টির মগজে তাদের বেঁচে থাকার সমস্ত লাইফ হ্যাকস আগে থেকেই ইনস্টল করে দিয়েছেন।

|
সৃষ্টির এই অবিশ্বাস্য ব্যাকরণ আর গভীর বিজ্ঞান আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয়—জ্ঞানার্জনের কোনো বিকল্প নেই। চারপাশের এই জটিল মেকানিজমকে জানতে হলে আগে পড়তে হবে, চোখ মেলে তাকাতে হবে।
সৌজন্য : সমকালীন প্রকাশন