ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ ফিচার ]

সবকিছুই যখন জানেন- এটাও এবার জেনে নিন

থার্ড আই
প্রকাশিত: ১১:০৮, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সবকিছুই যখন জানেন- এটাও এবার জেনে নিন
উপস্থিত চীনের নাগরিক আকাশে একটি জৈব অস্ত্রের বিস্ফোরণ ঘটান। একটু পর এক এক করে সব মানুষের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিলো এবং তারা এক এক করে মরতে লাগলো। তখন আলবিদা গ্রামের মানুষ দেখলো পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মানুষের কি এক যন্ত্রের মাস্ক পড়তে লাগলো। তখন এন্

একটা মানুষ বড়জোর একশো বছর বাঁচবে।
আলবিদা গ্রামে এই একশো বছরে সব মানুষ প্রচুর ধর্ম কর্ম করলো এরপর মরে গেল। সবাই এই আশা নিয়ে মরলো যে মরার পর তাদের স্বর্গপ্রাপ্তি হবে। তাদের সন্তান ও একই কাজ করে যেতে লাগলো।

অপরদিকে ফরচুন নামে আরেকটি গ্রাম আছে তাদের থেকে হাজার মাইল দূরে। পৃথিবীর কোন ধর্মের সাথে তারা পরিচিত নয়। পৃথিবীতে তাদের গ্রামটি পরিচিত গবেষণার গ্রাম নামে। এই গ্রামে কোন ধর্মীয় বিদ্যালয় নেই। ওদের গ্রামের মানুষ বিদ্যুৎ উৎপাদন করলো , কল কারখানা তৈরি করলো , সবশেষে মহাকাশে যাওয়ার জন্য তারা এলিভেটর স্পেস লিফ্ট তৈরি করলো। স্যাটেলাইট থেকে শুরু করে পৃথিবীর সব অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ও আবিষ্কার সব তাদের গ্রামে।

Advertisement

আলবিদা গ্রামটি মরুভুমি হওয়ায় সেখানে তেমন বৃষ্টিপাত হয়না।তারা সবসময় বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করে। বহুবছর পর একদিন ফরচুন গ্রাম থেকে পঞ্চাশ সদস্যর ' ফিফথ জেনারেশন' নামে একদল লোক আলবিদা গ্রামে বিমানে চড়ে আসলো। আলবিদা গ্রামের মানুষ এই উড়ন্ত যান দেখে ভাবলো এই মানুষগুলো স্বর্গ থেকে তাদের রক্ষা করতে এসেছে। এর আগে আলবিদা গ্রামের মানুষ পাখি দেখলেও কোনদিন তারা বিমান দেখেনি। আলবিদা গ্রামের দূর্দশার কথা শুনে ফিফথ জেনারেশন নামে দলটি আলবিদা গ্রামের উপর কৃত্রিম মেঘ তৈরি করলো এবং বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে চাষাবাদ তৈরি করলো। আলবিদা গ্রামের মানুষের মুখে হাসি ফুটে উঠলো।

তারা আলবিদা গ্রামে একটি গবেষণাগার তৈরি করলো এবং সেখানে থেকে তারা রকেটের সাহায্য মহাকাশে যাওয়া আসা করতে লাগলো। এই দৃশ্য দেখে আলবিদা গ্রামের মানুষ অবাক হয়ে গেলো। তাদের একজন রকেটে করে মহাকাশে যেতে চাইলো। মহাকাশে গিয়ে সদরুদ্দিন দেখলো , ' সূর্য তো ডুবেনা!! সে এসে তার গ্রামের মানুষকে সূর্য ও মহাকাশে কি কি দেখেছে তার গল্প বলতে লাগলো। কিন্তু কেউ তার কথা বিশ্বাস করলোনা। সে আকাশের উপরে গিয়ে বসেছিলো এসব তাদের কাছে রূপকথা ও যাদুর মত মনে হলো।

ধীরে ধীরে আলবিদা গ্রামের আরো কয়েকজন লোক মহাকাশে ঘুরে এলো। তারা মহাকাশে তারার মৃত্যু দেখলো। তাঁরা পৃথিবীতে ফিরে এলে সবাই তাদের সৃষ্টিকর্তাকে দেখতে পেয়েছে কিনা এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করলো। সবাই উত্তর দিলো , ' তারা অসংখ্য গ্রহ ও নক্ষত্র দেখতে পেয়েছে কিন্তু সৃষ্টিকর্তাকে দেখতে পায়নি।

আলবিদার মানুষ একদিন যাদুকর ভেবে ফরচুন গ্রামের লোকদের তাদের গ্রাম থেকে বের করে দিলো। জন্ম, মৃত্যু ও বিয়ে এইভাবেই আলবিদা গ্রামের মানুষ বছরের পর বছর মরছে কিন্তু কেউ কাউকে স্বর্গে যেতে দেখেনি। এসব হয়তো দেখা যায়না তাই মানুষ এসব দেখেনা। বহু বছর পর আলবিদা গ্রামের মানুষ দেখলো তাদের আকাশে পাখির মতো কিছু মানুষ ভেসে বেড়াচ্ছে এবং এসব দেখে তারা খুব আশ্চর্য হলো। সেই মানুষদের একজন আলবিদা গ্রামে নেমে মানুষদের বললো , ' ইচ্ছে করলে এই যন্ত্রটির সাহায্য আপনারাও আকাশে উড়ে বেড়াতে পারেন।'

আলবিদা গ্রামের মানুষ একে একে বিজ্ঞানের সব আবিস্কারের সাথে পরিচিত হতে লাগলো। এরপর আলবিদা গ্রামে এলো নতুন এক যন্ত্র মাইক। মাইক দিয়ে এরা পৃথিবীর সব বিজ্ঞানকে অস্বীকার করতে লাগলো।

এর বহু বছর পর আবার ফরচুন গ্রামের মানুষ আলবিদা গ্রামে মোবাইল ফোন বিক্রি করতে এলো। আলবিদা গ্রামের মানুষ দেখলো এই মোবাইল দিয়ে ছবি তোলা যায়, গান শোনা যায় , আবার ভিডিও কলে কথাও বলা যায়। এটাতেই আবার নতুন একটি অ্যাপস আছে যার নাম ফেসবুক। এই ফেসবুক ঘিরে আলবিদা গ্রামে এক এন্টারকটিক এন্টারটেইনমেন্ট নেটওয়ার্ক গড়ে উঠলো।

তারা ফেসবুকের সাহায্য বিজ্ঞানের সব আবিষ্কার নিজেদের দাবী করতে লাগলো। এসব বিষয়ে তারা আগে থেকেই সব জানতো এইভাবে ফেসবুকে প্রচার করতে লাগলো। তাদের এসব দেখে পুরো পৃথিবী থেকে দলে দলে মানুষ আলবিদা গ্রামে আসতে লাগলো।

পৃথিবীর মানুষ তাদের নানা আবিষ্কার নিয়ে আলবিদা মাঠে সমাবেত হলো। এরপর এক এক করে সব এন্টারকটিক এন্টারটেইনমেন্ট মঞ্চে উঠলেন। মঞ্চে একটি গাধা ও একটি উটকেও তোলা হলো।

" এই পৃথিবীতে এক মহামানবের নাতি তিনিই সর্বপ্রথম নগর নির্মাণ করেন!!!!
এই তথ্য শুনে গ্রীক ও রোমানরা এদের দিকে হা করে তাকিয়ে রইলো।
- এই পৃথিবীতে তিনিই প্রথম কাপড় তৈরি করে দেখান!!!
এই কথা শুনে পৃথিবীর সব দেশের বিজ্ঞানীরা একে অপরের মুখের দিকে তাকাতে লাগলো।

- এই পৃথিবীতে তিনিই সর্বপ্রথম খনিজ উত্তোলন করেন।
-এই পৃথিবীতে তিনিই সর্বপ্রথম প্রার্থনালয় গড়ে তুলেন।
- এই পৃথিবীতে তিনিই সর্বপ্রথম গাছ কেটে ঘর তৈরি করেন!!!
- এই পৃথিবীতে তিনিই প্রথম ধারালো তলোয়ার তৈরি করেন !!!

এসব আর শুনতে না পেরে এমন সময় সেখানে উপস্থিত চীনের নাগরিক আকাশে একটি জৈব অস্ত্রের বিস্ফোরণ ঘটান। একটু পর এক এক করে সব মানুষের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিলো এবং তারা এক এক করে মরতে লাগলো। তখন আলবিদা গ্রামের মানুষ দেখলো পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মানুষের কি এক যন্ত্রের মাস্ক পড়তে লাগলো। তখন এন্টারকটিক এন্টারটেইনমেন্ট মাইকে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বললো, এটা কি ?

তখন সবাই একবাক্যে বললো, বাঁচতে হলে জানতে হবে এটা কি ?
বুড়ি বললো , সবকিছুই যখন জানেন তবে এটাও এবার জেনে নিন।

সূত্র : থার্ড আই, লুসিম ড্রীম- আলো আসবেই।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এস এম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!