তাপপ্রবাহে বাড়ছে অকালে শিশুর জন্ম
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে নির্ধারিত সময়ের আগেই বা অকালে শিশুর জন্ম বাড়ছে। এতে শিশুদের স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এমনকি দীর্ঘমেয়াদেও এর ভুক্তভোগী হতে পারে শিশুরা। নতুন এক গবেষণায় এমনটিই দেখা গেছে।
উচ্চ তাপপ্রবাহের ফলে অন্তঃসত্ত্বা নারীর শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে তা গর্ভজাত শিশুর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে। বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ, হিস্পানিক ও নিম্ন আর্থ-সামাজিক গোষ্ঠীর মায়েরা এক্ষেত্রে ঝুঁকিতে রয়েছেন। অর্থাৎ তীব্র তাপপ্রবাহে নির্ধারিত সময়ের আগেই সন্তান প্রসব করতে পারেন তারা।
গবেষকরা বলছেন, অন্তঃসত্ত্বাদের ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা থাকে। এর চেয়ে বেশি তাপপ্রবাহ হলেই ঝুঁকি বাড়তে থাকে। বিশেষ করে পরিবেশের তাপমাত্রা অন্তঃসত্ত্বার শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে বেশি বা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে পৌঁছলে রক্তপ্রবাহ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়তে পারে। এতে গর্ভের শিশুর পুষ্টি ও অক্সিজেনে ঘাটতি তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে গর্ভধারণের পর ১২ সপ্তাহের মধ্যে মায়ের শরীরের তাপমাত্রা ৩৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে শিশুর জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বাড়ে। এ ছাড়া অতিরিক্ত তাপে পানিশূন্যতা কিংবা হরমোনের ভারসাম্যহীনতা হলে অকাল প্রসবের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।
এদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘন ঘন তাপপ্রবাহ বইছে এবং তা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। তাপপ্রবাহের তীব্রতা বাড়ছে।
সিডিসি’র তথ্য অনুযায়ী, তাপপ্রবাহের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে গর্ভবতী নারীরাও আছেন। বিশেষ করে হিটস্ট্রোকজনিত সমস্যা হতে পারে তাদের, যা তাদের গর্ভে থাকা সন্তানের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে।
গবেষকরা ১৯৯৩ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি মেট্রোপলিটন এলাকায় পাঁচ কোটি ৩০ লাখ শিশুর জন্ম পর্যবেক্ষণ করেছেন। এতে তারা দেখেছেন, টানা চারদিনের তাপপ্রবাহে অকালে জন্মের আশঙ্কা দুই শতাংশ বেশি।
গবেষণার লেখক ও নেভাদা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামারিবিদ্যার অধ্যাপক লিন্ডসে ড্যারো বলেন, যে জনগোষ্ঠী কোনোভাবেই তাপপ্রবাহ থেকে দূরে থাকতে পারে না তারা আরো বেশি ঝুঁকিতে। শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ হলো অকাল জন্ম। ফলে শ্বাসপ্রশ্বাসসহ মানসিক বিকাশের মতো জটিল সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে শিশুরা।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান