ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

ইউরোপে ৫০ বছরের রেকর্ড তাপমাত্রা, বেঁকে যাচ্ছে রেললাইন

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪:৫৯, ২৭ জুন ২০২৬
ইউরোপে ৫০ বছরের রেকর্ড তাপমাত্রা, বেঁকে যাচ্ছে রেললাইন
ছবি সংগৃহীত

ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ইতালি, পোল্যান্ড ও সুইজারল্যান্ডসহ একাধিক দেশে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তারও বেশি। তীব্র গরমে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ। পাশাপশি বাতিল করা হয়েছে উৎসব, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও জনসমাগমের অনুষ্ঠান। 

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চলমান ‘ওমেগা ব্লক’ নামে পরিচিত একটি স্থির উচ্চচাপ বলয় দীর্ঘ সময় ধরে একই স্থানে অবস্থান করছে। ফলে শীতল বাতাস প্রবেশ করতে না পেরে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। এর সঙ্গে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যুক্ত হয়ে পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

‘ওমেগা ব্লক’ প্রভাবে মৌসুমি স্বাভাবিক তাপমাত্রার তুলনায় কোথাও কোথাও ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

Advertisement

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, ইউরোপ বর্তমানে ইতিহাসের অন্যতম তীব্র তাপপ্রবাহের মুখোমুখি। সংস্থাটির মতে, গত ৫০ বছরে ইউরোপের গড় তাপমাত্রা প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। মহাদেশটি বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা অঞ্চলগুলোর একটি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এখন ঘন ঘন চরম তাপপ্রবাহ দেখা দিচ্ছে বলেও জানিয়েছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা।

জার্মানির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শুক্রবার নতুন জাতীয় রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। সারব্রুকেনের কাছে তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। সেখানে তীব্র গরমে রেললাইন এঁকে বেকে গেছে। অনেক ট্রেনের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের টিকিট বাতিলের বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সড়কের পিচ নরম হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর তৈরি হয়েছে অতিরিক্ত চাপ। 

ফ্রান্সেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। জরুরি স্বাস্থ্যসেবার ওপর বাড়তি চাপ পড়েছে। এ কারণে প্যারিস প্রাইড মার্চ ও জনপ্রিয় সঙ্গীত উৎসব ‘সলিডে’ স্থগিত করা হয়েছে। একই কারণে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে বেলজিয়ামে ঐতিহাসিক ওয়াটারলু যুদ্ধের পুনঃমঞ্চায়ন অনুষ্ঠানও।

স্পেন, ইতালি ও পোল্যান্ডেও জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। দাবানলের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় অনেক বনাঞ্চলে প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। কোথাও কোথাও জনসমাগম কমাতে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য ও সুইজারল্যান্ডেও জুন মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড গড়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত গরমে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। অনেক হাসপাতালে জরুরি বিভাগে রোগীর চাপ বেড়েছে। কয়েকটি দেশে বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত মানুষকে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শুধু মানুষের জীবনই নয় তীব্র গরমে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি, পরিবহন ও পর্যটন খাতও। সুইজারল্যান্ডে হিমবাহ দ্রুত গলছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা চলতি বছর দেশটি স্বাভাবিক সময়ের আগেই ‘গ্লেসিয়ার লস ডে’-তে পৌঁছাবে, অর্থাৎ এক বছরে যত বরফ জমার কথা, তার চেয়ে বেশি বরফ ইতোমধ্যে গলে যাবে।

এদিকে ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশনের বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এই অঞ্চলে চলমান তাপপ্রবাহ এখন পর্যন্ত রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে তীব্র ঘটনাগুলোর একটি। গত দুই দশকের তুলনায় এমন অস্বাভাবিক গরমের সম্ভাবনা প্রায় ১০০ গুণ বেড়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী কয়েক দিন ইউরোপের পূর্বাঞ্চলের দিকে এই তাপপ্রবাহ আরও বিস্তৃত হতে পারে। যদিও কোথাও কোথাও বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে, তবুও তা সামগ্রিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের স্বস্তি আনবে না বলে মনে করা হচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এস আই এস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!