হামের প্রকোপে নিউইয়র্কে জরুরি অবস্থা জারি
হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে দুর্যোগকালীন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন গভর্নর ক্যাথি হোকুল। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে হামের প্রকোপ শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম কোনো অঙ্গরাজ্যে এ ধরনের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এমএমআর (হাম-মাম্পস-রুবেলা) টিকা দেওয়ার অনুমোদনপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা বাড়িয়েছে নিউইয়র্ক সরকার।
রাজ্যটির নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩ অক্টোবর পর্যন্ত নিউইয়র্কে ১০৮ জন হামে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে গত ১৫ জুলাই থেকে ১৮টি গ্রামীণ কাউন্টিতে ৯২ জনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে, যা স্বাভাবিক বার্ষিক সংক্রমণের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
আক্রান্তদের মধ্যে সাতজন নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দা। বাকি ১০১ জন রাজ্যের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, যেসব এলাকায় টিকাদানের হার কম, সেখানে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১৫ জুলাইয়ের পর থেকে গ্রামীণ এলাকাগুলোতে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ১ হাজারের বেশি এমএমআর টিকার ডোজ বিতরণ করেছে।
নিউইয়র্কের প্রতিবেশী অঙ্গরাজ্য পেনসিলভানিয়াতেও হামের পরিস্থিতি গুরুতর আকার ধারণ করেছে। সেখানে ২ অক্টোবর পর্যন্ত অন্তত ৯৭৭ জন আক্রান্ত এবং পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আক্রান্তদের বড় একটি অংশ নিউইয়র্ক সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দা।
পেনসিলভানিয়ার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, সেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে, যা গত প্রায় তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় হামের প্রাদুর্ভাব।
নিউইয়র্কের নতুন নির্বাহী আদেশের আওতায় নিবন্ধিত নার্সরা সন্দেহভাজন রোগীদের সরাসরি হামের পরীক্ষার জন্য নির্দেশ দিতে পারবেন। পাশাপাশি ফার্মাসিস্টরা দুই বছর বয়সী শিশুদেরও এমএমআর টিকা দিতে পারবেন। টিকা দেওয়ার সব তথ্য ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সরকারি রেজিস্ট্রিতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, দেশটিতে এ বছর প্রায় ৩ হাজার ৯০০ মানুষ হামে আক্রান্ত হয়েছেন। ১৯৯১ সালের পর এটিই দেশটিতে সবচেয়ে বড় হামের প্রাদুর্ভাব।
সোমবার (৫ অক্টোবর) থেকে নিউইয়র্কে জারি করা জরুরি অবস্থা আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।