অগ্নিকাণ্ডের পর বনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মিল্টন দত্ত মামলা করেন। ২০২২ সালের ২৭ ডিসেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক সমীর চন্দ্র সূত্রধর আদালতে চার্জশিট দেন। সেখানে এস এম এইচ আই ফারুক, তাজভীরুল ইসলাম, সেলিম উল্লাহ, এ এ মনিরুজ্জামান, সৈয়দ আমিনুর রহমান, ওয়ারদা ইকবাল, কাজী মাহমুদুন নবী ও রফিকুল ইসলামকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। রূপায়ণ চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খানকে মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়। তবে মামলাটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় তদন্ত না হওয়ায় পিবিআইকে অধিকতর তদন্তের জন্য নির্দেশ দেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বলেন, 'মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য আদালত নির্দেশ দিয়েছেন। এ মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।'
আদালতের বনানী থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আলমগীর হোসেন বলেন, এ মামলায় আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছিল। তবে আদালত চার্জশিট গ্রহণ না করে অধিকতর তদন্তে পাঠিয়েছেন। এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২ মে দিন ধার্য রয়েছে।
.png)
সাক্ষ্যগ্রহণে আটকা দুদকের দুই মামলা
এদিকে ঢাকার বনানীর এফআর টাওয়ারের নকশা জালিয়াতির অভিযোগে ভবন মালিক ও নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুলসহ চারজনের বিচার চলছে। ২০২১ সালের ১৮ অক্টোবর ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ কামাল হোসেনের আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। এ মামলায় মোট সাক্ষী ৪০ জনের মধ্যে মাত্র ৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। আগামী ২৭ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী দিন ধার্য রয়েছে। এ মামলার অপর আসামিরা হলেন-রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন খাদেম, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ইজারা গ্রহীতা সৈয়দ মো. হোসাইন ইমাম ফারুক (এস এম এইচ আই ফারুক) ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী সাইদুর রহমান।
এদিকে, রাজউকের ছাড়পত্র ইস্যু, ফি জমা, ভুয়া ও নকশা অনুমোদন না নিয়ে ভুয়া নকশা তৈরি করে এফআর টাওয়ারের ১৯তলা থেকে ২৩তলা পর্যন্ত নির্মাণ করে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে বন্ধক, বিক্রি ও অগ্নিকাণ্ডে জনসাধারণের জানমালের ক্ষতির কারণে দুদকের উপ-পরিচালক আবু বকর সিদ্দিক বাদী হয়ে ২০১৯ সালের ২৫ জুন কমিশনের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ আরেকটি মামলা দায়ের করেন।
রাজধানীর বনানীর এফআর টাওয়ারের নকশা জালিয়াতির মামলায় ভবনটির মালিক সৈয়দ মো. হোসাইন ইমাম ফারুক (এস এম এইচ আই ফারুক) ও রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুলসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। ২০২১ সালের ১৫ নভেম্বর রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুলসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ সৈয়দ কামাল হোসেন।
অপরদিকে এ মামলার ঘটনাকালীন তত্ত্বাবধায়ক মো. মোফাজ্জেল হোসেন ও আব্দুল্লাহ আল বাকীকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। মামলায় মোট ৪৬ সাক্ষীর মধ্যে মাত্র সাত জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৬ এপ্রিল দিন ধার্য রয়েছে।
বিচার শুরু হওয়া ১৬ আসামি হলেন- এফআর টাওয়ারের মালিক সৈয়দ মো. হোসাইন ইমাম ফারুক (এস এম এইচ আই ফারুক), রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুল, এফআর টাওয়ার ওনার্স সোসাইটির সভাপতি কাসেম ড্রাইসেলের এমডি তাসভীর-উল-ইসলাম, রাজউকের সাবেক পরিচালক মো. শামসুল আলম, সহকারী পরিচালক শাহ মো. সদরুল আলম, সহকারী অথরাইজড অফিসার মো. নজরুল ইসলাম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক জাহানারা বেগম, সহকারী পরিচালক মেহেদউজ্জামান, রাজউকের উচ্চমান সহকারী মো. সাইফুল আলম, ইমারত পরিদর্শক (নকশা জমা গ্রহণকারী) ইমরুল কবির, ইমারত পরিদর্শক মো. শওকত আলী, উচ্চমান সহকারী মো. শফিউল্লাহ, সাবেক অথরাইজড অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম, নিম্নমান সহকারী মুহাম্মদ মজিবুর রহমান মোল্লা, অফিস সহকারী মো. এনামুল হক ও শওকত আলী।