‘একদিন অথবা একরাতে স্বপ্নে আমি আমার ঘরের মেঝেতে একটা বালুকণা দেখতে পেলাম। সেটাকে পাত্তা না দিয়ে আমি ঘুমের মধ্যে ফিরে গেলাম। সেই ঘুমের স্বপ্নের মধ্যে আবার জেগে উঠলাম এবং মেঝেতে দুটো বালুকণা দেখতে পেলাম। এরপর আবার ঘুমালাম ও স্বপ্নে দেখলাম সেখানে এখন তিনটা বালুকণা। প্রতিটা ঘুম ও স্বপ্নের মধ্যে বালুকণার সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছিল আস্তে আস্তে, যতক্ষণ পর্যন্ত না সেগুলো আমার ঘরকে পূর্ণ করে ফেলল এবং সেই বালুর স্তুপের নীচে চাপা পড়ে আমি মরে যেতে লাগলাম। যখন বুঝতে পারলাম যে আমি স্বপ্ন দেখছি, তখন প্রবল চেষ্টা করে নিজেকে জাগালাম। কিন্তু আমার জেগে ওঠা কোনো কাজে দিলো না- অসংখ্য বালুকণার চাপে আমার দমবন্ধ হয়ে এলো।
এই সময়ে কেউ একজন আমাকে বললঃ তুমি ঘুম থেকে জাগোনি, জেগেছ একটা পূর্ব-স্বপ্নের ভেতরে, এবং সেই স্বপ্ন শুয়ে আছে আরেকটা স্বপ্নের ভেতরে, এভাবে সীমাহীন সংখ্যক স্বপ্নের মধ্যদিয়ে যাচ্ছ তুমি। এই স্বপ্নগুলোই হলো এই বালুকণাগুলো। তোমাকে এক অন্তহীন পথ অতিক্রম করতে হবে, এবং সত্যিকারভাবে জেগে ওঠার আগেই তুমি মরে যাবে।
.png)
আমি হতবুদ্ধি হয়ে গেলাম। বালু আমার মুখকে চূর্ণ করে দিলো, কিন্তু আমি চিৎকার করে উঠলামঃ যে বালুকণাগুলোকে আমি স্বপ্নে দেখি সেগুলো আমাকে হত্যা করতে পারে না, এবং স্বপ্নের মধ্যে স্বপ্ন বলেও কিছু নেই।’