ঢাকা,  সোমবার   ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ ক্যাম্পাস ]

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নেতৃত্বে আহসান হাবীব?

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:১৯, ৫ অক্টোবর ২০২৬
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নেতৃত্বে আহসান হাবীব?
ছাত্রদলের সহসভাপতি এম আহসান হাবীবের। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি এম আহসান হাবীব। রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হলের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তাঁর নেতৃত্বের অভিযোগ উঠেছে। একাধিক ভিডিওতেও হামলার সময় তাঁকে ঘটনাস্থলে দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আহত সাংবাদিকদের অভিযোগ, আহসান হাবীবের নেতৃত্বে ছাত্রদলের একদল নেতাকর্মী তাদের ওপর হামলা চালান। এ ঘটনায় অন্তত চার সাংবাদিকসহ ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, হামলাকারীদের কয়েকজনের হাতে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র ছিল।

Advertisement

তবে আহসান হাবীব হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, কোনো ‘নিরপেক্ষ সাংবাদিকের’ ওপর হামলা হয়নি। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও জিয়া হলের জিএস আরিফুলকে ধরতে গেলে কিছু ‘সাংবাদিক নামধারী গুপ্ত শিবির’ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার চেষ্টা করে। তাদের ‘প্রতিহত’ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে এক ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে আহসান হাবীবের একটি ফোনালাপ ফাঁসকে কেন্দ্র করে তাঁকে রাবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। সংগঠনটির পক্ষ থেকে তখন তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়। তবে আহসান হাবীব দাবি করেছিলেন, ফোনালাপটি সম্পাদনা করে প্রচার করা হয়েছে।

এর কয়েক মাস পর ২০২৫ সালের জুনে তাঁর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে মারধর, টাকা নেওয়া এবং ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। রাবির ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) এক শিক্ষার্থী এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে আহসান হাবীবের নামও উল্লেখ করা হয়।

ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগ ছিল, কয়েকজন তাঁকে আটকে মারধর করে টাকা নেন এবং ভবিষ্যতে ছাত্রদলের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য চাপ দেন। তবে আহসান হাবীব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল এবং তিনি তার ফোন দেখতে চেয়েছিলেন; কিন্তু টাকা নেওয়ার ঘটনা ঘটেনি।

অভিযোগ ও আগের সাংগঠনিক পদক্ষেপের পরও ছাত্রদলে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান স্থায়ীভাবে শেষ হয়নি। ২০২৬ সালে রাবি ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার সময় তাঁর আগের অব্যাহতি প্রত্যাহার করা হয়। পরে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি করা হয়।

সর্বশেষ রোববার রাতে রাকসুর সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম ও আহসান হাবীবের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জিয়াউর রহমান হলের সামনে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে সেখানে অবস্থান নেওয়া ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কয়েকজনের হাতে দেশীয় অস্ত্র দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। সাংবাদিকরা ঘটনাটি ভিডিও করতে গেলে তাদের বাধা দেওয়া এবং পরে কয়েকজনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। কয়েকজনের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে।

এ ঘটনায় দ্য ডেইলি স্টার, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, দৈনিক সমকাল ও আগামীর সময়ের সাংবাদিকসহ কয়েকজন আহত হন। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর আহসান হাবীবের দেওয়া বক্তব্যে সাংবাদিকদের একটি অংশকে ‘গুপ্ত শিবির’ আখ্যা দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ এবং এর সঙ্গে তাঁর নেতৃত্বের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/রাবি/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!